গ্যাস সংকট মোকাবিলায় কক্সবাজারে আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যেই টার্মিনাল দুটির নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহে সংকট দেখা দেওয়ায় আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক কারখানায় উৎপাদন নেমে এসেছে ৫০ শতাংশের নিচে।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ আংশিকভাবে মেরামত করা হলেও এখনো সেগুলো পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্র একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না সরকার। এরই অংশ হিসেবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আরও দুটি এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কুতুবদিয়ায় নতুন দুটি টার্মিনাল যৌথভাবে নির্মাণ করবে চীন। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়াতে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রায় আরও তিনটি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলনের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এদিকে, জ্বালানি আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে মালয়েশিয়াসহ বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে সরকার। তবে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।