গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে কার্যত ভেস্তে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক বিশ্লেষক প্যাটি কুলহেন।
রোববার (৯ আগস্ট) এক বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুলহেন বলেন, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ঘোষণা গত ৩১ জুলাই দেওয়া হয়েছিল এবং হোয়াইট হাউস বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করেছিল। কিন্তু নেতানিয়াহুর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সেই উদ্যোগকে কার্যত ব্যর্থ করে দিয়েছে।
তার মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে দুই নেতার মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
কুলহেন বলেন, ট্রাম্প এমন একজন নেতা, যিনি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রকাশ্যে অসম্মানিত হতে পছন্দ করেন না। তাই নেতানিয়াহু তার সঙ্গে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি খেলায়’ নেমেছেন।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে। ইসরায়েলের পক্ষে লবিংকারী সংগঠন এআইপ্যাক বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও ইসরায়েলকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা কমানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া অনেক প্রার্থী প্রাইমারিতে জয়ী হয়েছেন।
কুলহেনের ভাষ্য, ট্রাম্প চাইলে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে ইসরায়েল ইস্যুতে বড় ধরনের অবস্থান পরিবর্তন ঘটাতে পারেন। যদিও সবাই নয়, তবে রিপাবলিকানদের একটি বড় অংশ তার অবস্থান অনুসরণ করতে পারে।
তার মতে, নেতানিয়াহু মূলত এই হিসাবেই এগোচ্ছেন যে, ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির ওপর তার শক্তিশালী প্রভাব ব্যবহার করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন না।
তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান কতটা দূরত্ব তৈরি করেছে এবং তা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়।
-টিএস