চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ৬ হাজার ৮০১ কোটি ৪২ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে রাজস্ব ব্যয় ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা কমে হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় কমার ফলে এক বছরে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত বেড়েছে ৪৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত আয়, ব্যয় ও উদ্বৃত্তের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই অর্থবছরেই বন্দরের রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
হিসাব অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় ছিল ৪ হাজার ৭২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ওই বছর রাজস্ব ব্যয় হয় ১ হাজার ৯৬৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ফলে কর-পূর্ব রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২ হাজার ১০৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আয় বেড়ে হয় ৪ হাজার ৪৩৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এ সময়ে রাজস্ব ব্যয় ছিল ২ হাজার ১৩৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা এবং রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২ হাজার ৩০৪ কোটি ১২ লাখ টাকা।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন্দরের রাজস্ব আয় আরও বেড়ে ৪ হাজার ৮৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় পৌঁছায়। ওই অর্থবছরে রাজস্ব ব্যয় ছিল ২ হাজার ১১৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। ফলে কর-পূর্ব রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২ হাজার ৭১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।
পরের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ রাজস্ব আয় বেড়ে হয় ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একই সময়ে রাজস্ব ব্যয় দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। ফলে রাজস্ব উদ্বৃত্ত হয় ২ হাজার ৯৭৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় বৃদ্ধির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে বন্দরের রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮০১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে আয় ছিল ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আয় বেড়েছে ১ হাজার ৪৩৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা বা ২৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, আয় বাড়লেও রাজস্ব ব্যয় কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ৪১ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৮৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যয় কমেছে ১৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ।
আয় বৃদ্ধি ও ব্যয় কমার প্রভাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বন্দরের কর-পূর্ব রাজস্ব উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৯ কোটি ১ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরে এই উদ্বৃত্ত ছিল ২ হাজার ৯৭৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ফলে এক বছরে উদ্বৃত্ত বেড়েছে ১ হাজার ৪৫১ কোটি ৮ লাখ টাকা বা ৪৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ।
পাঁচ বছরে উদ্বৃত্ত দ্বিগুণের বেশি
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাঁচ বছরের হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজস্ব উদ্বৃত্ত ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ১০৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা থেকে ২০২২-২৩ সালে তা বেড়ে হয় ২ হাজার ৩০৪ কোটি ১২ লাখ টাকা। ২০২৩-২৪ সালে উদ্বৃত্ত দাঁড়ায় ২ হাজার ৭১৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং ২০২৪-২৫ সালে ২ হাজার ৯৭৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা এক লাফে বেড়ে ৪ হাজার ৪২৯ কোটি ১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে বন্দরের রাজস্ব উদ্বৃত্ত দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। একই সঙ্গে এই সময়ে বন্দরের সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় ও উদ্বৃত্তের রেকর্ডও হয়েছে।
এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসেও বন্দরের রাজস্ব আয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। ওই সময়ে রাজস্ব আয় ৬ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় এবং রাজস্ব উদ্বৃত্ত ৪ হাজার ২৮৭ কোটি টাকায় পৌঁছায়।
সর্বশেষ পূর্ণ অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবেও আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যয় কমার চিত্র পাওয়া গেছে। এর ফলে রাজস্ব উদ্বৃত্তে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব এখনো প্রাথমিক হওয়ায় চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর আয়, ব্যয় ও উদ্বৃত্তের অঙ্কে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ হিসাব বলছে, রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখার ফলে বন্দরের আর্থিক সক্ষমতা ও কর-পূর্ব রাজস্ব উদ্বৃত্তে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশের পর বন্দরের আর্থিক প্রবৃদ্ধির পূর্ণ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
সূত্র: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত আয়, ব্যয় ও উদ্বৃত্তের হিসাব।
-টিএস