ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ে সেতুতে বড় গর্ত, ওয়াকওয়ের বেহাল দশা
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
X

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর ঢাকামুখী লেনের মাঝখানে বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে হাজারো যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। সেতুর ডেক স্ল্যাবের গর্ত দিয়ে নিচের পানিও দেখা যাচ্ছে। দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুর এমন বেহাল অবস্থা দেখার যেন কেউ নেই। দ্রুত স্থায়ী সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পথচারী ও স্থানীয়রা।

শুধু সেতুর মূল অংশই নয়, এর দুই পাশের পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ের অবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে বেহাল। ফলে পথচারীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিন ধরে সেতুর মাঝামাঝি অংশের ডেক স্ল্যাব ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনকে গতি কমিয়ে সতর্কতার সঙ্গে সেতু পার হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ভারী যানবাহন চলাচলের সময় সেতুতে কম্পনও অনুভূত হয়। রাতের অন্ধকার কিংবা বৃষ্টির সময় গর্তটি স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে ঝুঁকি কমাতে এখনো কোনো দৃশ্যমান স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সাধারণ মানুষ সেতুটি ব্যবহার করছেন।

এদিকে পথচারীদের জন্য নির্মিত ওয়াকওয়ের বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং কোথাও কোথাও বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আগাছায় ঢেকে পথটি প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে স্ল্যাব না থাকায় পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করছেন। সোনারগাঁয়ে অবস্থিত মেঘনা গ্রুপের ফ্রেশ কোম্পানি, বসুন্ধরা গ্রুপ, আল-মোস্তফা কোম্পানি, টাইগার পাওয়ার হাউজসহ আশপাশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। তাঁদের অভিযোগ, সামান্য অসাবধানতাতেই দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

ট্রাকচালক মহসিন মিয়া বলেন, আষাঢ়িয়াচর দ্বিতীয় সেতুর বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। সেতুর মাঝখানে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত স্থায়ীভাবে সংস্কার না করলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় আষাঢ়িয়াচর গ্রামের বাসিন্দা সুমন আলম বলেন, কয়েক মাস আগেও একই স্থানে গর্ত হওয়ার পর নামমাত্র সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু কাজটি টেকসই না হওয়ায় আবারও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। শুরু থেকেই মানসম্মতভাবে সংস্কার করা হলে আজ এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্ল্যাব ভেঙে গেছে, কংক্রিট উঠে গেছে এবং প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা দ্রুত ও স্থায়ীভাবে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. সালাউদ্দিন মধু বলেন, আমি প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করি। আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর এমন বেহাল অবস্থা দেখে মনে হয়, এটি যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই। সেতুর পাশের পথচারী চলাচলের ওয়াকওয়ের স্ল্যাবগুলোর কী অবস্থা, সেটিও কর্তৃপক্ষের নজরে আসে না। এখন সেখানে ঘাস জন্মে গেছে। নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে চলাচল করেন। সামান্য হোঁচট খেলেই দ্রুতগতির গাড়ির নিচে পড়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু ও পথচারীদের চলাচলের অংশ ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত, ওয়াকওয়ে নিরাপদ করা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, মহাসড়কের আষাঢ়িয়াচর ২ নম্বর সেতুর গর্তের বিষয়ে আমরা অবগত আছি। প্রাথমিকভাবে গর্তের ওপর স্টিলের প্লেট বসানো হয়েছে। পরে নিচ দিয়ে শাটারিং করে স্থায়ীভাবে কংক্রিট ঢালাইয়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হবে। বৃষ্টির কারণে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন হবে।

এমএইচ/আরএন



Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝