আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে জানিয়েছে, বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ট্যাংকার এনারগোস উইন্টার-এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। হামলার পর জাহাজে আগুন লাগে এবং তা পরে গ্যাসলগ সালেম নামের আরেকটি জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।
বন্দরসেবা প্রতিষ্ঠান ইঞ্চকেপ পৃথক এক বার্তায় জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে দুটি গ্যাসবাহী ট্যাংকারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার সঙ্গে পরিচিত তিনটি সূত্র জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় এনারগোস উইন্টারে আগুন লাগার পর তা পাশের জাহাজে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া দুটি নিরাপত্তা সূত্রও বিস্ফোরণের কারণ হিসেবে ড্রোন হামলার কথা নিশ্চিত করেছে।
অ্যামব্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই জাহাজের সব নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয় এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
মিশরের পেট্রোলিয়াম ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দামিয়েত্তা বন্দরে একটি টাগবোট ও একটি গ্যাস সংরক্ষণ জাহাজে আগুন লাগার ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মন্ত্রণালয় এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, ‘জরুরি পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তা দল দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।’ তবে আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করেনি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বিভিন্ন আরব দেশের দিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীও সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে এর আগে মিশর ইরান-সংশ্লিষ্ট কোনো ড্রোন হামলার শিকার হয়নি বলে জানা গেছে।
এদিকে পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন মোড় নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটিতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। একইসঙ্গে ইরানে সমর্থিত গোষ্ঠীর ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব পূর্ব ইরাকে একাধিক অস্ত্রভাণ্ডার ও সরবরাহ কেন্দ্রে যৌথ হামলা চালিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কঠোর জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানকে এর জন্য চরম মাশুল গুনতে হবে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে তেহরান। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বুশেহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পূর্ণ অচল হয়ে গেছে। এছাড়া একটি সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, ১২টি সেতু, দুটি সুড়ঙ্গ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও মাছ ধরার নৌকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি সতর্ক করে বলেছেন, উপসাগরে ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ক্ষতিপূরণ হিসেবে যদি কোনো দেশ বা কোম্পানি ইরানের জব্দ করা অর্থ গ্রহণ করে, তবে তাদের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয়া হবে না। সেইসঙ্গে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের ক্ষতিপূরণ ইরানের জব্দ করা তহবিল থেকে দেয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।
এসএ