পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ নিয়ে দলটির দুই পক্ষের বিরোধ এখনো মেটেনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দুই পক্ষই আলাদাভাবে জোড়া ফুল প্রতীক নিজেদের দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে।
এমনকি রাজ্যের দুটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনেও দুই পক্ষ একই প্রতীক দাবি করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
এই বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষের পাঁচজন করে প্রতিনিধির শুনানি হয়।
তবে সেদিন প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে কোনো নির্দেশ দেয়নি কমিশন। বরং দুই পক্ষের কাছে আরও কিছু নথি চাওয়া হয় এবং ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সেগুলো জমা দিতে বলা হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষই প্রয়োজনীয় নথি কমিশনে জমা দিয়েছে।
এরপর নির্বাচন কমিশন আজ, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর), দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের আবার শুনানিতে ডেকেছে।
ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদের বেলা ৩টায় এবং মমতাপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদের বিকেল ৪টায় কমিশনে হাজির হতে বলা হয়েছে।
চলতি বছর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন দেখা দেয়। দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিপুলসংখ্যক বিধায়ক নিয়ে আলাদা তৃণমূল গঠন করেন। এরপর থেকেই দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক জোড়া ফুল কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তা নিয়ে বিরোধ শুরু হয়।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের চিঠি পাওয়ার পর জানিয়েছেন, তাদের দলের প্রতিনিধিরা দিল্লিতে গিয়ে শুনানিতে অংশ নেবেন। ঋতব্রতপন্থী প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, আমন ঝা, আখতারুজ্জান ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
অন্যদিকে, মমতাপন্থী তৃণমূলের প্রতিনিধিদলে রয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, মহুয়া মৈত্র, সাগরিকা ঘোষ ও একজন আইনজীবী। দুই পক্ষই জোড়া ফুল প্রতীক পাওয়ার দাবিতে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
এদিকে সামনে রয়েছে দুটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনে আগামী ৬ অক্টোবর ভোট হওয়ার কথা। ১৬ সেপ্টেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। দুই পক্ষই জোড়া ফুল প্রতীক দাবি করে প্রার্থী দিয়েছে।
এ কারণে আজকের শুনানির পর নির্বাচন কমিশন প্রতীক নিয়ে কোনো অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত জানায় কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রাজনৈতিক মহলে এমন সম্ভাবনাও আলোচনা হচ্ছে যে, তৃণমূলের জোড়া ফুল প্রতীক ও দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ আদালতে চলমান থাকায় কমিশন আপাতত প্রতীকটি ‘ফ্রিজ’ করে দুই পক্ষকে বিকল্প প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। তবে এটি কেবল সম্ভাবনা; কমিশনের পক্ষ থেকে এমন কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানানো হয়নি।
ফলে আজ দুই পক্ষের শুনানির পর নির্বাচন কমিশন কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলের। দুই পক্ষই অবশ্য জোড়া ফুল প্রতীক নিজেদের হাতে পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।
সূত্র: আনন্দবাজার