নাটোরের বড়াইগ্রামের মানইর থেকে নাজিরপুরগামী এক কিলোমিটার রাস্তা পাকা না হওয়ায় দুই উপজেলার আট গ্রামের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ বছরের পর বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
জানা যায়, বড়াইগ্রাম ও পাশের পাবনার চাটমোহর উপজেলার আটটি গ্রামের বাসিন্দারা মানইর-নাজিরপুর সড়কটি ব্যবহার করেন। আশপাশের মানুষের কৃষিপণ্যসহ অন্যান্য মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য জোনাইল বাজারে যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি। এছাড়া শিক্ষার্থীরা এ পথ দিয়ে মানইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নাজিরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, জোনাইল উচ্চ বিদ্যালয়, জোনাইল সেন্ট লুইস উচ্চ বিদ্যালয়সহ জোনাইল ও বড়াইগ্রাম কলেজে যাতায়াত করে।
কিন্তু সড়কটির উভয় পাশ পাকা হলেও মানইর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে নাজিরপুরে নজরুল ইসলামের বাড়ি পর্যন্ত অংশটি দীর্ঘদিনেও পাকা করা হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পুরো রাস্তা জুড়ে কাদা ও পানিতে ভরা। কিছু দূর পরপরই রয়েছে ছোট-বড় গর্ত। কাদার কারণে কোনো যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা স্যান্ডেল-জুতা হাতে নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন। এদিন এলাকার সবচেয়ে বড় ব্যবসাকেন্দ্র জোনাইল হাটে বেচাকেনার জন্য আসা মানুষদের কাদায় নেমে মালবোঝাই অটোরিকশা ও ভটভটি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
স্থানীয় অটোরিকশাচালক আব্দুল বাসেত বলেন, “কাদার কারণে এ রাস্তায় গাড়ি চালানো যায় না। কিন্তু গাড়ি নিয়ে যেতে না চাইলেও প্রায়ই যাত্রীদের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়।”
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান বলেন, “সড়কের দুই পাশ পাকা হলেও মাঝের এক কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিনেও পাকা করা হয়নি। এতে বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটি দ্রুত পাকা করার দাবি জানাচ্ছি।”
উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুস সামাদ বলেন, “জনগণের যাতায়াত স্বাভাবিক রাখতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে রাস্তাটি পাকাকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এএইচ/আরএন