নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১২ মামলার আসামি রাসেল আহমেদকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে র্যাব-১১ ও র্যাব-২-এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর পান্থপথ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি দেশীয় শটগান, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত রাসেল আহমেদ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর এলাকার মৃত সাফাতউল্লাহর ছেলে।
শুক্রবার রাতে র্যাব-১১ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী, কোরবানপুর ও শান্তিনগর এলাকায় রাসেল আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী ও সহিংস সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করে আসছিলেন। পিরোজপুর ইউনিয়নের পাঁচানী ও আশপাশের এলাকায় নতুন গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা, ড্রেজিং ও আবাসন প্রকল্পে আধিপত্য বিস্তার করাই ছিল এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য।
র্যাব জানায়, ইট, বালু সরবরাহ, স্ক্র্যাপ বা ঝুট ব্যবসা এবং নির্মাণকাজের নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করত তারা। এলাকায় ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য এ বাহিনী প্রকাশ্যে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা, টেঁটা ও হকিস্টিক নিয়ে মহড়া দিত।
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের সঙ্গে প্রকাশ্যে পিস্তল উঁচিয়ে গুলি চালানো, টেঁটাবিদ্ধ করে আহত করা এবং বাড়িঘরে হামলার একাধিক ঘটনার সঙ্গে এই বাহিনীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া মাদক ও সন্ত্রাসসংক্রান্ত অপরাধের সংবাদ প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে র্যাব জানিয়েছে।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে র্যাব-১১ ও র্যাব-২-এর একটি যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানাধীন পান্থপথ এলাকা থেকে রাসেল আহমেদকে গ্রেফতার করে।
পরে গ্রেফতারকৃত রাসেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সোনারগাঁওয়ের কোরবানপুরে তার বসতবাড়ির পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি গোডাউনের ভেতর থেকে একটি দেশীয় শটগান, ৪ রাউন্ড গুলি ও ১৪টি টেঁটা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত রাসেল আহমেদের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও ও ঢাকার বিভিন্ন থানায় অন্তত ১২টি মামলা রয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য তাকে সোনারগাঁও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসএস/আরএন