ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
ইরানের কাছে হরমুজ প্রণালিতে হামলা বন্ধের অঙ্গীকার চায় যুক্তরাষ্ট্র
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩২ পিএম আপডেট: ১১.০৭.২০২৬ ৩:৩৫ পিএম
X

উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে আলোচনার আগে তেহরানের কাছে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি চেয়েছে ওয়াশিংটন।

শনিবার ওমানে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকে এ বিষয়টিকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হবে।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনাটি ছিল ‘ভুল’।

তেহরানের দাবি, এ ঘটনার জন্য তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা একটি গোষ্ঠী দায়ী।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হলেও উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।

গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছায়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল ইরান।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরান দাবি করেছে, একদল ‘বিচ্যুত’ কট্টরপন্থি আলোচনাকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালিয়েছিল।

এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, আমরা ভুল করেছি। এটি আমাদের ভুল ছিল। চলুন, আলোচনা চালিয়ে যাই।’

শুক্রবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের নেতৃত্বের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে ইরানকে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার ঘোষণা দিতে এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে বলা হয়েছে।

রয়টার্সের উদ্ধৃতিতে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তারা হয় আমাদের সেই বিবৃতি দেবে, না হলে তাদের জন্য ফল ভালো হবে না।’

আজ ওমানে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা কমানো এবং নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধি দল ইরান সফর করেছে।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আমাদের কাছে আবারও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে আমরা তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছি, যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’

শুক্রবার নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। তবে সপ্তাহের শুরুতে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে সংঘর্ষ শুরু হয়, তা জুনে অন্তর্বর্তী চুক্তি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওমানের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপারিশ করা নৌপথ ব্যবহার করার সময় তিনটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। অন্যদিকে ইরান বারবার দাবি করে আসছে, তাদের জলসীমা দিয়ে নির্ধারিত বিকল্প পথই একমাত্র নিরাপদ রুট।

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়। এর লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং ‘সব ফ্রন্টে’ সংঘাতের অবসান ঘটানো।

সমঝোতা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও সামুদ্রিক সেবার কাঠামো নিয়ে ইরান, ওমান এবং উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের মধ্যে আলোচনা হবে।

সংঘাত চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের সার্বভৌম কর্তৃত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরে। এ সময় তারা ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি সংস্থা গঠনের ঘোষণা দেয়। সংস্থাটি নিরাপদ নৌ চলাচলের জন্য ‘সেফ প্যাসেজ পারমিট’ ইস্যু করবে বলে জানানো হয়।

ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সমঝোতার আওতায় ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা ইরান ও ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত হবে। এ ব্যবস্থায় প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের কাছ থেকে সম্ভাব্য সেবা ফি আদায়ের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

এসএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝