দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী পপুলার ফোর্সের প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশটির সর্বোচ্চ নির্বাচনী আদালত ‘ন্যাশনাল জুরি অব ইলেকশনস’ (জেএনই) চূড়ান্তভাবে এই ফল ঘোষণা করে। গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত রান-অফ বা দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে তিনি বামপন্থী প্রার্থী ও কংগ্রেস সদস্য রবার্তো সানচেজকে পরাজিত করেছেন।
চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল অত্যন্ত সামান্য। বিজয়ী কেইকো ফুজিমোরি পেয়েছেন ৯২ লাখ ২৩ হাজার ভোট, আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রবার্তো সানচেজ পেয়েছেন ৯১ লাখ ৭৩ হাজার ভোট। মাত্র ৫০ হাজার ভোটের এই ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় ফুজিমোরি লিখেছেন, পেরুর ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তিনি আরও জানান, গভীর কর্তব্যবোধ, বিনয় ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার ভার নিচ্ছেন এবং এখন থেকেই নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি ও সংলাপের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরি পেরুর সাবেক বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে, যিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দীর্ঘ ১৬ বছর কারাভোগ করেছিলেন। তার এই বিজয়ের মাধ্যমে গত তিন দশকের মধ্যে পেরুর অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের যেমন পুনরুত্থান ঘটলো, তেমনি লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা আরও সুসংহত হলো। জুলাই মাসের শেষের দিকে পেরুর স্বাধীনতা দিবসে নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মাধ্যমে ২০১৬ সালের পর তিনি হবেন দেশটির দশম রাষ্ট্রপ্রধান।
এর আগে গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচন দ্বিতীয় ধাপে গড়ায়। তবে ব্যালট বিতরণে বিলম্ব এবং উভয় দফার ভোট গণনায় দীর্ঘ সময় লাগায় এবারের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রামীণ ও আদিবাসী ভোটারদের মধ্যে শক্তিশালী সমর্থন থাকা বামপন্থী নেতা রবার্তো সানচেজ ভোট গণনায় অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুললেও এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। তিনি মূলত প্রবাসীদের ভোট ডিজিটাল পদ্ধতিতে গণনার নিয়ম শিথিল করার সমালোচনা করেন। যদিও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকেরা জানিয়েছেন, ভোট জালিয়াতির কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রাজধানী লিমা থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার সাংবাদিক মারিয়ানা সানচেজ জানিয়েছেন, পেরুর অভ্যন্তরে রবার্তো সানচেজ বেশি ভোট পেলেও প্রবাসী পেরুভিয়ানদের একচেটিয়া সমর্থন ফুজিমোরির বিজয় নিশ্চিত করেছে। তবে এই ফলাফলের পর সানচেজ তার সমর্থকদের একত্র করে ফুজিমোরিকে অভিশংসিত (ইমপিচমেন্ট) করার রাজনৈতিক চেষ্টা চালাতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কেইকো ফুজিমোরি জানিয়েছেন, দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়া দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি দেশের অপরাধের হার কমানো এবং বিদ্যমান চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করারও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
এসএ