ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৯০ জন আহত হয়েছেন। শহরের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো এ হামলাকে কিয়েভের ওপর এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় হামলা বলে উল্লেখ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার কিয়েভে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিস্ফোরণে একাধিক আবাসিক ভবনের দেয়াল ধসে পড়েছে, কয়েকটি ভবনে আগুন লেগেছে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউক্রেনের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মস্কোর ভাষ্য, ইউক্রেনের হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা রাশিয়ার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, হামলাটি সরাসরি বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল।
কিয়েভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাতভর হামলায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মিলিয়ে কয়েক শতাধিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক হামলা প্রতিহত করলেও বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
এদিকে এ হামলার পর যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ইউক্রেন পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
-টিএস