দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে গুরুতর আহত হয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার ১১ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ধূলাতৈড় (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি একই গ্রামের খলিল উদ্দীনের ছেলে মো. বাবু (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী মমতাজ আলীর স্ত্রী সখিনা একটি দোকানের সামনে মসজিদের দানবাক্সে বসে গেম খেলছিলেন। এ সময় বাবুর ছেলে রিফাত হোসেন (১৫) তাকে এ বিষয়ে নিষেধ করলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, কিছুক্ষণ পর মমতাজ আলী, তার দুই ছেলে শাহিনুর রহমান ও শাখাওয়াত হোসেন, পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং একই এলাকার সাবেক গ্রাম পুলিশ আইনুল, আফজাল, ইউসুফ, মজিবরসহ কয়েকজন বাবুর বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ধারালো কুড়াল দিয়ে বাবুর বুকে আঘাত করা হয়। বাবুর স্ত্রী ও ছেলে রিফাত এগিয়ে এলে তাদেরও এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করা হয়।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বাবু ও তার ছেলে রিফাতকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন। রিফাতের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাতেই বিরল থানা পুলিশ প্রতিবেশী আইনুলের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা (৩৪)-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে বিরল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আল এমরান বলেন, “দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। মূল ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
বুধবার দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিরল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে জানাজা শেষে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।
এআর/আরএন