২০২৬–২০২৭ বাজেট ঘোষণা দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে জনসভা এবং সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বেলা ১১টার দিকে নিজ হাতে মাটি কেটে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বিভিন্ন কর্মসূচি শেষে তিনি রাত ৭টা ৫০ মিনিটে চকরিয়ায় জনসভায় ভাষণ দেন।
এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।
বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে।
তিনি বলেন, কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর, কারণ এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিরোধী দল সেটি নিয়েও সমালোচনা করছে। জনগণ বিষয়টি ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।
সকালের পথসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়; এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।
তাঁর ভাষায়, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের প্রাণ হলো কৃষকরা। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লবণ চাষীদের জন্য মূল্য নির্ধারণের বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা লাভবান হতে পারেন।
তিনি ‘করবো কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’—এই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে কৃষক, নারী, শিক্ষার্থী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য। দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্যঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
নারী শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের জন্য শিক্ষা সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
এ সময় তিনি জানান, হার্টের রিং ও কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত উপকরণের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যাতে চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা।
পাতলী খালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি। ১৯৭৭ সালে গ্রামীণ অর্থনীতি ও সেচব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল, যার অংশ ছিল পাতলী খাল।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মাবুদ। এতে বক্তব্য দেন বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিবৃন্দ।
এএইচএসইউ/এসআর