ক্যান্সার সম্পর্কে ভীতি নয়, বরং সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব—এই প্রত্যয়ে নওগাঁয় ক্যান্সার সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় নওগাঁ সদর উপজেলার ইকরকুড়ি গ্রামের রহিমা বনিজ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে আলো ভুবন ট্রাস্টের উদ্যোগে ‘ক্যান্সার নয় আতঙ্ক, সচেতনতা, প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলো ভুবন ট্রাস্টের উপদেষ্টা মো. আহসান সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জার্মানি থেকে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং আলো ভুবন ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ড. আবু জাকারিয়া।
প্রধান আলোচক ছিলেন আলো ভুবন ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সামাজিক সংগঠন একুশে পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট ডি. এম. আব্দুল বারী, সাধারণ সম্পাদক এম. এম. রাসেল, রাণী এনজিওর প্রধান নির্বাহী ফজলুল হক, চিকিৎসক ডা. ময়নুল হক দুলদুল, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এএসএম রায়হান আলম, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনলাইনে যুক্ত হয়ে অধ্যাপক ড. আবু জাকারিয়া বলেন, “জার্মানিতে যাওয়ার আগে দীর্ঘ সময় দেশে ক্যান্সার সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করেছি। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ইকরকুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইকরকুড়ি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ক্যান্সার সম্পর্কে অজ্ঞতা ও ভয় অনেক সময় রোগকে জটিল করে তোলে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিকল্প নেই। আলো ভুবন ট্রাস্ট ভবিষ্যতেও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাবে।”
প্রধান আলোচক অধ্যাপক ড. হাসিন অনুপমা আজহারী বলেন, “বিশ্বজুড়ে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে অধিকাংশ ক্যান্সারের সফল চিকিৎসা সম্ভব। ধূমপান বর্জন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যান্সার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “ক্যান্সার এখন আর মৃত্যুদণ্ড নয়। আধুনিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তির কারণে অনেক ক্যান্সার সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হচ্ছে। তবে এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা এবং রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা। সরকার ক্যান্সারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে কাজ করছে। সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে।”
সভাপতির বক্তব্যে মো. আহসান সাঈদ বলেন, “সামাজিক উদ্যোগ ও জনসচেতনতার মাধ্যমে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। আলো ভুবন ট্রাস্ট মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
কেকেএইচ/ এসআর