আজ (রোববার) শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। আগামী বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করেছে। নির্বাচিত নতুন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল, যা তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম ছিল।
বাজেটের আকার বৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণের সুদ পরিশোধের চাপ এবং সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বাজেট নিয়ে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারকে চাপে ফেলতে পারে বিরোধী দল।
বিশেষ করে মূল্যস্ফীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য বিরোধী দলের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হতে পারে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপের বিষয়টি সংসদে জোরালো ভাবে তুলে ধরা হতে পারে।
এছাড়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারে বিরোধী সদস্যরা। বাজেটে কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও সরকারের ব্যাখ্যা চাইতে পারেন তারা।
ব্যাংকিংখাতের চ্যালেঞ্জ, খেলাপি ঋণের পরিমাণ, বৈদেশিক ঋণের চাপ এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন নিয়েও বিরোধী দলের সমালোচনা দেখা যেতে পারে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের সংস্কার প্রশ্নেও সরকারকে জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তাখাতে বরাদ্দের কার্যকারিতা এবং উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও সংসদে আলোচনা হতে পারে। বিরোধী সদস্যরা এসব খাতে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার ও জনগণের কাছে এর সুফল পৌঁছানোর বিষয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন।
কর কাঠামোয় সম্ভাব্য পরিবর্তন, নতুন কর আরোপ কিংবা করের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর কতটা প্রভাব ফেলবে- এ বিষয়টিও বিরোধী দলের আলোচনার কেন্দ্রে থাকতে পারে।
তবে বাজেট উপস্থাপনের আগে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কোন কোন বিষয়কে প্রধান ইস্যু করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত অবস্থান এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই এবারের বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলের বক্তব্য ও সমালোচনার মূল সুর নির্ধারিত হবে।
এমএ