হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চলতি গ্রীষ্মেই বিশ্ব তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধানরা।
শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেলের মজুদ রেকর্ড গতিতে হ্রাস পাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হলে উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন জ্বালানি চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই বিশ্বের তেলের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। এতে জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাজার এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর ঝুঁকি আরও বাড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে কার্যত বাধা সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়।
এর আগে এপ্রিল মাসে আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও আইইএর প্রধানরা দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য সমন্বিত সহায়তা নিশ্চিত করতে একটি যৌথ কর্মদল গঠনের ঘোষণা দেন।
সাম্প্রতিক যৌথ বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়েছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ওপর।
তাদের ভাষ্য, সারের মূল্যবৃদ্ধি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বর্তমানে কৃষি মৌসুম শুরু হচ্ছে। এতে খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাতে হয়েছে। একই সঙ্গে সংকট মোকাবিলায় দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, আইএমএফ জানিয়েছে যে বাংলাদেশ একটি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজের আবেদন করেছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো এই সংকটের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে রয়েছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অধিকাংশ দেশই এ তালিকায় রয়েছে।
অন্যদিকে, সারের সরবরাহব্যবস্থাও ব্যাহত হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলো নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
আরএন