যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে নতুন একটি চুক্তিতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা। এখন শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদনের অপেক্ষা।
যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত চারটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ট্রাম্প চুক্তিটি অনুমোদন করলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়বে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর থাকা অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে পারে।
সূত্রগুলোর মতে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত স্থানান্তর এবং দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরান প্রস্তাবিত চুক্তিতে সম্মতি দিলে তা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হয়। টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প এখনও চুক্তিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। অন্যদিকে, ইরানের কোনো কর্মকর্তা বা সরকারি মুখপাত্রও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।
এদিকে, ইরানের সরকারি প্রতিনিধি দলের বরাতে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, চুক্তির খসড়া এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাইনি, তবে খুব কাছাকাছি আছি এবং আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এ মুহূর্তে আমি কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। তবে আমরা বর্তমানে যে অবস্থানে আছি, তা নিয়ে আমি আশাবাদী।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এর পরপরই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তির খবর প্রকাশিত হয়।
সূত্র : রয়টার্স