| BREAKING: |

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মধ্যেই হরমোজ প্রণালির কাছে নতুন করে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কাতারের দোহায় যখন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আলোচনা চালাচ্ছে, ঠিক তখনই এ হামলার ঘটনায় যুদ্ধবিরতি ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ এই অভিযান চালিয়েছে। তবে হামলার নির্দিষ্ট স্থান ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এলাকাটি হরমোজ প্রণালি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
সেন্টকমের মুখপাত্র নেভি ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স আল জাজিরাকে বলেন, হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন স্থাপনের চেষ্টা করা ইরানি নৌযানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তার ভাষ্য, যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও মার্কিন বাহিনী নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
এদিকে ভারত সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, ইরান হরমোজ প্রণালির কাছে মাইন স্থাপনের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই যেকোনো মূল্যে হরমোজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আবারও সংঘাতের দিকে যেতে পারে।
এ ঘটনায় ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন এমকিউ–৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পাশাপাশি একটি আরকিউ–৪ ড্রোন ও একটি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমানের দিকেও গুলি চালানোর দাবি করা হয়েছে।
আইআরজিসি জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের যেকোনো ঘটনার জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার আগে সাগরে একটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল আইআরজিসি এবং বন্দর আব্বাসের হামলায় তাদের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
এদিকে তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আলোচনা এগোলেও এখনই কোনো চূড়ান্ত চুক্তির কথা বলা যাচ্ছে না। তিনি জানান, বর্তমান আলোচনার মূল লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করা; পরমাণু কর্মসূচি এখন আলোচনার অংশ নয়।
এর মধ্যে কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদুলনাসের হেম্মতির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই হামলা শান্তি আলোচনার গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ইরান যদি পাল্টা পদক্ষেপ নেয়, তাহলে যুদ্ধবিরতির প্রক্রিয়া বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
এসআর