ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালুর ঘোষণার পর সীমান্ত এলাকায় নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে শত শত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, এদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।
গত রোববার পশ্চিমবঙ্গে অবৈধভাবে থাকা বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের জন্য হোল্ডিং সেন্টার চালুর ঘোষণা দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণার পর সোমবার থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এসব সেন্টার কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম দিনেই ১২ জন বাংলাদেশিকে হোল্ডিং সেন্টারে নেওয়ার খবর সামনে আসে।
এরপর থেকেই সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশে ফেরার প্রবণতা বেড়েছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে সীমান্তজুড়ে, যেখানে বহু মানুষ দেশে ফেরার আশায় ভিড় করছেন।
অবশ্য পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরও সেসময় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে লম্বা লাইন দেখা গিয়েছিল। কাঁটাতার পার করে যারা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ভারতে প্রবেশ করেছেন, তাদের দেশে ফেরার হিড়িক চোখে পড়েছিল মাস কয়েক আগে।
এবার রাজ্য সরকারের নতুন ঘোষণার পর ফের একই ছবি দেখা গেল। এসআইআর প্রক্রিয়ার পরেও যারা অবৈধভাবে ভারতে থেকে গিয়েছিল মূলত তারাই আবারও বাংলাদেশে ফিরে যেতে ভিড় জমাচ্ছেন সীমান্তে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) সকাল থেকে উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর থানার বিঠারি হাকিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ হাকিমপুর চেকপয়েন্টে দেখা যায় লম্বা লাইন। সেখানে বাংলাদেশি নাগরিকরাই ভিড় জমাচ্ছেন।
অবৈধভাবে যারা ভারতে বসবাস করতেন এবং যারা দালালদের ধরে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, মূলত তারাই এবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন। সীমান্তের এই অংশে একদিনেই ভিড় করেছেন নারী-শিশুসহ অন্তত ৬০০ বাংলাদেশি নাগরিক। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান যে অবৈধ বাংলাদেশি বাসিন্দাদের শনাক্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে, এরপর বিএসএফ তাদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করবে। এই ধরনের পদক্ষেপ শুরু হওয়ার আগেই শত শত বাংলাদেশি সীমান্তে ভিড় জমাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটের প্রচারণার সময় রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট করার ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ক্ষমতায় আসার ২০ দিনের মধ্যেই সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দেয়ার ঘোষণা দেয় শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার।
এমনকি অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়লে আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং সরাসরি বিএসএফের কাছে তুলে দেয়া বলেও ঘোষণা দেন শুভেন্দু। আর এর জন্যই কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা মেনে রাতারাতি চালু করা হয়েছে হোল্ডিং সেন্টার।
এমন অবস্থায় আতঙ্ক বেড়েছে অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে ভিড় বাড়ছে অনুপ্রবেশকারীদের।