বান্দরবানের দুর্গম রুমা উপজেলায় বন বিভাগের একাধিক রেঞ্জ অফিস দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে পলি রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসের পর মাস অনুপস্থিত থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে স্থানীয়রা প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সরকারি সম্পদ অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুমা উপজেলায় বন বিভাগের অধীনে তিনটি রেঞ্জ অফিস রয়েছে—বান্দরবান রেঞ্জ, পলি রেঞ্জ ও পাইন্দু রেঞ্জ। এসব অফিস থেকে জোট পারমিটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অধিকাংশ কাজ পরিচালিত হচ্ছে বান্দরবান সদর রেঞ্জ অফিস থেকে। এতে দুর্গম এলাকার সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে পলি রেঞ্জ অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত। অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ না থাকলেও ভেতরে কার্যক্রমের কোনো চিহ্ন নেই। কর্মকর্তার টেবিল-চেয়ার অযত্নে পড়ে আছে, ভবন জরাজীর্ণ, কোথাও টিন নেই, বাউন্ডারি ভাঙাচোরা—সব মিলিয়ে এটি পরিত্যক্ত ভবনের মতো দেখাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে ইঞ্জিনচালক বা প্রহরীকেই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
পলি রেঞ্জের কর্মকর্তা ফারুক বাবুলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। তবে তিনি জানান, আগামীকাল থেকে নিজ রেঞ্জে নিয়মিতভাবে অফিস করবেন।
অন্যদিকে পাইন্দু রেঞ্জের কর্মকর্তা সোহেল হোসেন বলেন, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন কারণে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা হচ্ছে। তিনি জানান, বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী রেঞ্জ কর্মকর্তার নিজ রেঞ্জে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক এবং তিনি বান্দরবান থেকে এসে নিজ অফিসে উপস্থিত থাকবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রেঞ্জ অফিসগুলোতে নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকায় বন সংরক্ষণ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সুযোগে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবাধে বৃক্ষ নিধন চলছে, যা পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রুমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী বলেন, “রেঞ্জ অফিসগুলোতে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে বান্দরবান রেঞ্জ অফিসের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম এলাকায় সরকারি দপ্তর সচল না থাকলে শুধু সেবা ব্যাহতই নয়, প্রাকৃতিক সম্পদও ঝুঁকির মুখে পড়ে। রুমা উপজেলার বন বিভাগের বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত রেঞ্জ অফিসগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে কার্যক্রম চালু করা হোক এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। অন্যথায় পরিবেশ ও প্রশাসনিক কাঠামো উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইউএম/এসআর