ইরানে অবিস্ফোরিত বোমা সরিয়ে নেওয়ার সময় বিস্ফোরণে ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর ১৪ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই সদস্য আহত হয়েছেন। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জানজান প্রদেশে এ ঘটনা ঘটে।
ইরানের বার্তা সংস্থা ফারসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। হতাহতরা আইআরজিসির বিশেষায়িত একটি ইউনিটের সদস্য ছিলেন। সেখানকার কৃষিজমি থেকে বিপজ্জনক অবিস্ফোরিত বোমা ও মাইন অপসারণের দায়িত্বে তারা ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর কৃষিজমি এসব অবিস্ফোরিত গোলার কারণে ঝুঁকির মুখে ছিল। এটি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এদিকে স্থবির হয়ে পড়া শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আইআরএনএ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রস্তাবের মূল কপি ইসলামাবাদের কাছে পাঠানো হয়। এর আগে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সংশোধিত প্রস্তাবের অপেক্ষা করছে। সেটি স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটনে পৌঁছাতে পারে।
শুক্রবার ইরানের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট ‘মিজান’-এ প্রকাশিত এক ভিডিওতে বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র কখনোই আলোচনা থেকে পিছিয়ে যায়নি। তবে তেহরান চাপিয়ে দেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবে না। এজেই আরও বলেন, ‘আমরা কোনোভাবেই যুদ্ধকে স্বাগত জানাই না। আমরা যুদ্ধ চাই না।’
সম্প্রতি ইরানের দেওয়া একটি প্রস্তাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে জানিয়েছিলেন তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ওই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের অবসানের কথা ছিল। তবে পারমাণবিক ইস্যু স্থগিত রাখতে চাওয়া হয়। এ নিয়ে বুধবার ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের যেকোনো প্রস্তাবের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে তাতে থাকা পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর—তারা এ বিষয়ে কতটা ছাড় দেবে সেটির ওপর। তারা যদি পারমাণবিক অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা বাদ না দেয়, তাহলে কোনো চুক্তিই হবে না।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথম দফার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয় গত মাসের শুরুতে। এরপর আর আলোচনা এগোয়নি। বৃহস্পতিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিসহ দুই দেশের শীর্ষ নেতারা হরমুজ প্রণালি ঘিরে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। যুদ্ধের অবসান ঘটাতে দুই পক্ষের আলোচনা এখন পর্যন্ত সফল না হলেও অস্ত্রবিরতি বজায় আছে।
আরএন