মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার ভোর রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় নিহতের পরিবার।
নিহত মো. রাকিব হোসেন (২২) উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের মো. আলমগীর হোসেনের ছেলে। প্রায় দেড় বছর ধরে তারা নিজ গ্রাম ছেড়ে বাউশিয়া ইউনিয়নের দড়ি বাউশিয়া গ্রামে ভাড়া থাকতেন।
নিহতের মা রুমা বেগম বলেন, 'রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে আমার ছেলের পূর্ব পরিচিত তিন যুবক গাড়ি নিয়ে দড়ি বাউশিয়া গ্রামে আমাদের ভাড়া বাসায় ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে রাতে বাসায় না ফেরায় এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় ভোর ৫টার দিকে খুঁজতে বের হই। বের হয়ে জানতে পারি- গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামের বালুরচর এলাকায় নদীর পাড়ে এক যুবককে নির্যাতন করে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে রাকিবকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পাই। রাকিব তখন কয়েকবার পানি পানের আকুতি জানানোর পর সে নিস্তেজ হয়ে পড়ে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন|'
নিহতের খালা রোজিনা বেগম বলেন, 'আমার বোনের ছেলেকে নয়ন-পিয়াসের লোকজন বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে মেরে নদীর পাড়ে ফেলে গেছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের ফাঁসি চাই।'
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের পক্ষে পিয়াস বলেন, 'রাকিব আমাদের সাথে চলাফেরা করত। তার সাথে আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। সে কিভাবে মারা গিয়েছে আমি জানিনা। যদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা হয়ে থাকে সে ঘটনায় আমি কোনো ভাবেই জড়িত নই। মূলত আমার নাম বলে আমার প্রতিপক্ষের লোকজন তার মৃত্যুর দায় আমার ওপর চাপাতে চাচ্ছে।'
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. সোলায়মান সুজন বলেন, 'নিহতের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত বা বড় কোনো জখম নেই। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।'
গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, 'নিহত যুবক স্থানীয় সুপার স্টার ফ্যাক্টরিতে কাজ করত। শুনেছি, রোববার রাতে তিন যুবক তাকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।'
এইউ/এমএ