বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে আবারও অবরোধ আরোপ করেছে ইরান।
শনিবার ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি, ইরানিয়ান স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির খবরে বলা হয়, প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পুরো ব্যবস্থাপনা এখন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবে, যেমনটি আগে ছিল।
যদিও এর আগে কিছু জাহাজকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ অতিক্রম করতে দেখা গিয়েছিল, বর্তমানে সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়।
এদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘দস্যুতা’র অভিযোগ এনেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ আসলে সামুদ্রিক ডাকাতির শামিল। ইরান পূর্বেই সতর্ক করে দিয়েছিল, তাদের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
গতকাল শুক্রবার ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। এরপর বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালে হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট বা পথ অনুসরণ করতে হবে।
তবে আরাগচি এ বক্তব্য দেওয়ার পর ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানো না পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ চল্বে।
এদিকে, ইরানের আকাশসীমা আংশিকভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে আকাশসীমা ও কয়েকটি বিমানবন্দর চালু করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হবে।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, দেশের পূর্বাঞ্চলের আকাশপথ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই ইরানের আকাশসীমা বন্ধ ছিল।
এসআর