মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান মেজর জেনারেল সাঈদ মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন। তিনি সোমবার সকালে মারা যান।
এক বিবৃতিতে মেজর জেনারেল খাদেমির মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুদের সন্ত্রাসী হামলায় মেজর জেনারেল সাঈদ মাজিদ খাদেমি নিহত হয়েছেন।” বিবৃতিতে এর বেশি আর কিছু বলা হয়নি।
ইরানের পরমাণু প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত দুই দশক ধরে দেশটির সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের দ্বন্দ্ব চলছেই। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিন ধরে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো প্রকার সমঝোতা চুক্তি ছাড়া সেই সংলাপ শেষ হয়।
পরের দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে ইরানে। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে একই সময়ে ইরানেও সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ শুরু করে ইসরায়েল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের অভিযানের প্রথম দিনেই নিহত হন খামেনিসহ ইরানের সামরিক ও সরকারি প্রশাসনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।
সমান্তরালে হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমানে—অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে বারবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে, যা এখনও চলছেই।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইরানে নিহত হয়েছেন মোট ১,৩৪০ জন।
সূত্র: আল জাজিরা
আরএন