মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে বরখাস্ত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। পেন্টাগনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার তাকে বরখাস্ত করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের দুই কর্মকর্তা ও এক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বনডিকে বরখাস্ত করেছেন। বিশেষ করে প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে তার ‘পারফরম্যান্সে অসন্তোষ বাড়তে থাকায়’ এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পিট হেগসেথ প্রতিরক্ষা বিভাগকে নতুন ভাবে সাজাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চান। সে কারণে জেনারেল এবং অ্যাডমিরালদের বরখাস্ত করছেন।
তবে জেনারেল জর্জের হঠাৎ বিদায়ের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না জানালেও পেন্টাগন বিষয়টিকে ‘অবসর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও তার মেয়াদ আরও এক বছরের বেশি সময় বাকি ছিল।
সূত্র জানায়, ট্রাম্প মনে করছিলেন- যেসব সমালোচক ও বিরোধীদের বিরুদ্ধে তিনি ফৌজদারি মামলা চান, তাদের বিচারের আওতায় আনতে বন্ডি যথেষ্ট দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছিলেন না।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ, যিনি আগে তার ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন, তিনি অস্থায়ী ভাবে বিচার বিভাগ পরিচালনা করবেন।
ওই পোস্টে ট্রাম্প বন্ডিকে ‘মহান দেশপ্রেমিক ও বিশ্বস্ত বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন ও বলেন, তার নেতৃত্বে অপরাধ দমনে বড় ধরনের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বন্ডি শিগগিরই বেসরকারিখাতে নতুন দায়িত্বে যাবেন, তবে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ডি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ ও সুরক্ষিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ও সফল প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দেওয়া আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান।
তিনি আরও লিখেছেন, আগামী এক মাস তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজ করবেন। অন্যদিকে, ব্ল্যাঞ্চ ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বন্ডির প্রশংসা করেন ও যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বন্ডি ট্রাম্পের নীতির কড়া সমর্থক ছিলেন ও তদন্তের ক্ষেত্রে হোয়াইট হাউজ থেকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে দেন।
তবে এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে সমালোচনাই তার দায়িত্বকালকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল ও কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তার সমালোচনা করেন। অভিযোগ ওঠে, বিচার বিভাগের যৌন পাচার তদন্ত সংক্রান্ত নথি প্রকাশে তিনি গোপনীয়তা রক্ষা বা ভুল ব্যবস্থাপনা করেছেন।
একটি সূত্র জানায়, বুধবার হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ট্রাম্প বন্ডিকে জানান, তিনি তাকে প্রতিস্থাপন করতে চান। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠরা তাকে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেন।
হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক মাসে ট্রাম্প একাধিকবার বন্ডিকে তার অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন। তিনি লি জেলডিনকে বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন, পাশাপাশি অন্য প্রার্থীদের বিষয়েও আলোচনা করেছেন।
গত বুধবার (১ এপ্রিল) বন্ডি দিনটির বেশির ভাগ সময় ট্রাম্পের সঙ্গে কাটান। সকালে তিনি তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতে যান, পরে ইস্টার উপলক্ষে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং রাতে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের ভাষণ শোনেন।
সর্বোচ্চ আদালতে ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন, যখন বন্ডির অধীনস্থ কর্মকর্তা সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার বিচারপতিদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন। সেখানে প্রশাসনের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার প্রচেষ্টা নিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স।
এমএ