সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান প্রদেশে ইরানের ড্রোন হামলায় এক বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ইফতারের পর কাজে বের হলে আকস্মিক বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে রোববার সকালে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানা গেছে, নিহতের নাম সালেহ আহমদ (৩৮)। তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা এবং আজমানে ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা আক্রমণ চালায়। এই হামলায় এখন পর্যন্ত তিন জন নিহত হয়েছেন- একজন বাংলাদেশি, একজন পাকিস্তানি এবং একজন নেপালি নাগরিক। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে এবং দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইফতারের পর সালেহ আহমদ জরুরি খাদ্য ও পানীয় সরবরাহের কাজে বের হন। তার সঙ্গে আরও একজন সহকর্মী ছিলেন। হঠাৎ আকাশে আগুনের মতো উজ্জ্বল একটি বস্তু দেখা যায়। মুহূর্তেই বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ।
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন। সিভিল ডিফেন্স ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠায়।
নিহত সালেহ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত ছিলেন। দেশে তার মা, স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন তিনি।
সালেহ আহমেদের চাচাতো ভাই মাহবুব আলম চৌধুরী বলেন, 'হঠাৎ করেই ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। কীভাবে ঘটনা ঘটেছে তা এখনো পুরোপুরি জানি না। দ্রুত মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।'
এ ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মরদেহ দেশে পাঠানো এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
এমএ