সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে পৃথক দুই ঘটনায় এক নারী ও এক অটোচালকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাগুলো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মোছা: রাফিয়া বেগম (৩৭) গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১০টায় পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার শেষে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন ভোর ৩টা ২০ মিনিটে তার মা মোছা: মনোয়ারা বেগম মেয়েকে নিজ ঘরে না পেয়ে নির্মাণাধীন ঘরের বাঁশের তীরের সঙ্গে গোলাপী রঙের ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় দোয়ারাবাজার থানা অপমৃত্যু মামলা নং-০৪, ২৩/০২/২০২৬ ইং রুজু করা হয়। তদন্তভার পিএসআই সুমন মিয়া-এর ওপর অর্পণ করা হয়েছে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে একই দিনে বাংলাবাজার ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের অটোচালক নাঈম আহমেদ (২৫)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার সকালে তার পিতা মুফাজ্জল হোসেন বাড়ির পাশে অটোরিকশার চার্জিং লাইন খুলতে গিয়ে ছেলেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরিবারের কান্না ও চিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
স্থানীয়রা জানান, নাঈম আহমেদ সহজ-সরল ও ভদ্র স্বভাবের একজন যুবক ছিলেন এবং তার আচরণে আত্মহত্যার কোনো ইঙ্গিত ছিল না। তবে পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল বলে আলোচনা রয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। দোয়ারাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ তারিকুল ইসলাম বলেন, পিতা-মাতার জবানবন্দি ও মরদেহের আলামতের মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য থাকায় পরিবারের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এমবি/ এসআর