ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
বানার নদীর তীরে দুই ঘণ্টার সবজি হাট
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৮ পিএম
X

ভোরের ঘন কুয়াশা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। বানার নদীর বুক চিরে একের পর এক নৌকা ভিড়ছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বরমী বাজারের খেয়াঘাটে। নৌকার ভেতর সাজানো দেশি আলু, টমেটো, শিম, মিষ্টিকুমড়া, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মূলার স্তূপ। নৌকা থেকেই তীরে নামছে টাটকা শাকসবজি, আর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হচ্ছে দরদাম।

বুধবার সকালে বরমী বাজারে গিয়ে দেখা যায় এমনই চিত্র। প্রায় শত বছরের পুরোনো এই বাজার আজও এলাকার কৃষি অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। প্রতি বুধবার এখানে বসে বিশাল শাকসবজির সাপ্তাহিক হাট। বানার নদীঘেঁষা এই বাজারে শুধু শ্রীপুর নয়, আশপাশের একাধিক উপজেলার কৃষকেরা তাঁদের ক্ষেতের উৎপাদিত টাটকা শাকসবজি নৌকাযোগে নিয়ে আসেন।

আড়তদারদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে ৯টা—মাত্র এই দুই ঘণ্টার মধ্যেই সব বেচাকেনা শেষ হয়ে যায়। এই স্বল্প সময়েই কয়েক লাখ টাকার শাকসবজির লেনদেন হয়।

বরমী বাজারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো খাজনামুক্ত বেচাকেনা। কৃষক ও পাইকারেরা জানান, এখানে শাকসবজি বিক্রি করতে কোনো ধরনের টোল বা খাজনা দিতে হয় না। নদীর তীরে বাজার বসায় মাল ওঠানামাও সহজ হয়।

পার্শ্ববর্তী কাপাসিয়া উপজেলার কুড়িয়াধী গ্রামের কৃষক মো. জালাল উদ্দীন বলেন, “নিজের জমির লম্বা বেগুন আর টমেটো নিয়ে এসেছি। প্রতিবছরই বরমী বাজারে আসি। এবার দাম ভালো পাচ্ছি। যদিও ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতের কারণে শাকসবজি কিছুটা কম এসেছে। এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছি।”

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার টাংহাব ইউনিয়নের বটতলা এলাকা থেকে আসা কৃষক মো. শহিদ মিয়া বলেন, “বানার নদীর তীরে হাট বসায় আমাদের অনেক সুবিধা। বাড়ির পাশের ঘাট থেকেই নৌকা ভর্তি করে বাজারে চলে আসি। নৌকা থেকে তীরে তুলে সবজি সাজাই, পাইকারেরা দরদাম করে নিয়ে যায়। কোনো বাড়তি খরচ নেই—এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা।”

একই উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকার কৃষক দয়াল মিয়া বলেন, “আমাদের উৎপাদিত শাকসবজি পুরোপুরি টাটকা। ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার করি না, জৈব সার দিয়েই চাষ করি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, বাড়তি খরচ নেই—এই কারণে বরমী বাজারেই বিক্রি করতে আসি। এখানকার চাহিদাও বেশি, ভালো দাম পাই।”

শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার উপশহরের আড়তদার মো. নাসির উদ্দীন এবং নয়নপুর বাজারের দোকানদার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বুধবার আমরা বরমী বাজারে টাটকা শাকসবজি কিনতে আসি। এখানকার সবজির মান খুব ভালো, দামও অন্য হাটের তুলনায় কিছুটা কম। এখান থেকে কিনে মাওনা চৌরাস্তা ও জৈনা বাজারের আড়তে বিক্রি করি। আলু, টমেটো, শিম, মিষ্টিকুমড়া, লাউ—সবই টাটকা ও সুস্বাদু।”

বরমী বাজারে বানার তীরে অবস্থিত ‘সেসাস আফসান এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক আনোয়ার মৃধা বলেন, “নদীর তীরে প্রতিদিনই শাকসবজির বেচাকেনা হয়, তবে বুধবার সবচেয়ে বেশি। সকাল ৭টা থেকে ৯টা—এই দুই ঘণ্টায় কয়েক লাখ টাকার সবজি বিক্রি হয়। কৃষকদের কোনো খাজনা দিতে হয় না। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব সবজি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।”

বরমী বাজারের ইজারাদার মাওলানা আব্দুল মতিন বলেন, “বছরের বিভিন্ন সময়, বিশেষ করে শীতকালে প্রায় দুই মাস নদীর তীরে শাকসবজির হাট বসে। এই সময় কৃষকদের সুবিধার জন্য বিনা খাজনায় সবজি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়। এবারও সেই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”

বরমী বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. শাহজাহান ফকির বলেন, “এই হাট শুধু ব্যবসার জায়গা নয়, কৃষক ও পাইকারদের জন্য একটি আস্থার নাম। খাজনামুক্ত বাজার হওয়ায় কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন, আর ভোক্তারাও পাচ্ছেন টাটকা সবজি।”

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “বরমী বাজার একটি বহু পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী হাট। প্রতি বুধবার সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র দুই ঘণ্টার এই হাটে কয়েক লক্ষ টাকার শাকসবজি বেচাকেনা হয়। এখানে বিক্রি হওয়া সবজিগুলো অত্যন্ত টাটকা ও সুস্বাদু হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহও বেশি।”

এফএ/এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝