ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
বেওয়ারিশ মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ: ৮ জন শহীদ শনাক্ত
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪০ পিএম
X

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার রায়ের বাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪ জনের মরদেহ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কার্যক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। গত ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলা এই ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ৯টি পরিবার নিজেদের স্বজনের সন্ধানে নমুনা দিয়েছে।

পরীক্ষার মাধ্যমে এই নমুনার মধ্যে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। সিআইডি নিশ্চিত করেছে, শনাক্ত হওয়া প্রত্যেক শহীদ বুলেটবিদ্ধ অবস্থায় নিহত হন।

শনাক্ত হওয়া শহীদেরা হলেন— শহীদ সোহেল রানা (৩৮), শহীদ রফিকুল ইসলাম (৫২), শহীদ আসাদুল্লাহ (৩২), শহীদ মাহিন মিয়া (৩২), শহীদ ফয়সাল সরকার (২৬), শহীদ পারভেজ বেপারী (২৩), শহীদ কাবিল হোসেন (৫৮) এবং শহীদ রফিকুল ইসলাম (২৯)।

কার্যক্রমের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সিআইডির উদ্যোগে মানবাধিকার ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ফরেনসিক বিজ্ঞানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবাল বিনজ পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেন।

সিআইডি জানিয়েছে, জুলাই–আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব পরিবারের সদস্য আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের সিআইডির হটলাইন নম্বর ০১৩২০০১৯৯৯৯-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

প্রতিবেদন হস্তান্তরের পর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এই কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “তৎকালীন সরকার যে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটিয়েছে, তা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। নিজ দেশের নাগরিকদের হত্যা করে গণকবর দেওয়ার মতো ঘটনা কোনো সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না।”

তিনি আরও বলেন, সত্য উদঘাটন এবং শহীদদের পরিচয় ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ নিখোঁজ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়ের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং রাষ্ট্রের নৈতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই ডিএনএ শনাক্তকরণ কার্যক্রম প্রমাণ করে— সত্যকে চিরদিন চাপা দেওয়া যায় না। নিহতদের নাম ও পরিচয় ফিরে আসবে, আর তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরদিন লিপিবদ্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ কেবল একটি ফরেনসিক কার্যক্রম নয়; এটি নিখোঁজদের পরিবারের চোখের পানি মুছে দেওয়া, রাষ্ট্রের মানবিক মুখ পুনরুদ্ধার করা এবং ন্যায়বিচারের পথে এক সাহসী পদক্ষেপ। যারা এখনও প্রিয়জনের খোঁজে পথ চেয়ে আছেন, তাদের জন্য এ কার্যক্রম আশার আলো— একদিন সত্য সামনে আসবেই।

সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ বৈঠকে বলেন, একজন শহীদের মা নিয়মিত সিআইডির কাছে আসতেন। তিনি রায়ের বাজারে গিয়ে একটি গাছের নিচে থাকা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেন। খুবই আশ্চর্যজনকভাবে ওই গাছের নিচেই তার সন্তানের লাশ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ল্যাব তৈরি করে যেভাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে পুলিশের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।”

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেসুর রহমান, সিআইডির ডিআইজি মো. জমশের আলী, সিআইডির ডিআইজি মিয়া মাসুদ করিম, সিআইডির এসএসপি মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সিআইডির ডেপুটি চিফ ডিএনএ এনালিস্ট আহমাদ ফেরদৌস এবং জাতিসংঘে মানবাধিকার অফিসের প্রতিনিধি মো. জাহিদ হোসেন।

এসআর


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝