ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান গিল বলেছেন, নিকোলাস মাদুরো এখনো দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। মাদুরোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন দাবিকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্র পরিচালনা ও ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতেই তিনি এ মন্তব্য করেন। খবর সিএনএন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে ইভান গিল বলেন, “সংবিধান স্পষ্ট। নির্বাচিত ও সংবিধানসম্মত প্রেসিডেন্ট হলেন নিকোলাস মাদুরো মোরোস। তার শারীরিক উপস্থিতি অবিলম্বে ভেনেজুয়েলায় ফিরিয়ে আনতে হবে।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভেনেজুয়েলার সংবিধান এখনও বহাল আছে এবং সেটিই দেশ পরিচালনা করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করছে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন রয়েছে, পুলিশও মোতায়েন রয়েছে, জনগণও সক্রিয় রয়েছে। মাতৃভূমি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবকিছু সক্রিয়। বিশ্বাস রাখুন—এটি একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র। আমাদের সংবিধান দৃঢ় ও মজবুত, যা ইতিহাসজুড়ে আমরা যেমন দেখিয়েছি, তেমনি এই পরিস্থিতি এবং যে কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে সক্ষম।’
এর আগে, ভেনেজুয়েলায় হামলা চালানো এবং ‘দেশটির নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে’ বলে জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সফলভাবে ভেনেজুয়েলা ও তার নেতা প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং স্ত্রীসহ তাকে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
টানা কয়েক মাসের হুমকির পর ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশটির বিভিন্ন স্থানে সিরিজ বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, স্থানীয় সময় রাত ২টা থেকে টানা দেড় ঘণ্টা ধরে কারাকাসের আকাশে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ, যুদ্ধবিমানের গর্জন এবং ঘন কালো ধোঁয়া আচ্ছন্ন হয়ে ছিল।
হামলার পরপরই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে মোতায়েন করেছেন।
এসআর