ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
টিসিবির পণ্য পাবে পোশাক শ্রমিকরা: বাণিজ্যমন্ত্রী
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২, ৪:৪৯ পিএম আপডেট: ০১.০৯.২০২২ ১২:৩৫ পিএম


পোশাক শ্রমিক
দের জীবনমানের উন্নতিতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) আওতায় নিত্যপণ্য সরবরাহের চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, টিসিবি’র মাধ্যমে আমরা এক কোটি মানুষকে নিত্যপণ্য দিচ্ছি। আমি চেষ্টা করবো যাতে আমদের পোশাক শ্রমিকরা এই হিসেবের মধ্যে পড়ে। তাহলে কিছুটা হলেও তাদের কষ্ট কমবে।

বুধবার (৩১ আগস্ট) ‘সাম্প্রতিক আরএমজি প্রবৃদ্ধি : উপযুক্ত কর্মসংস্থান সম্পর্কে আমরা কী শিক্ষা পেয়েছি’শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। যেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম এবং বিকেএমইএ জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি মো. হাতেমসহ এ খাতের শ্রমিক নেতা এবং শ্রমিক সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রধানরা।

৫১টি পোশাক কারখানার ১২৪৪ জন শ্রমিকের ওপর এ জরিপ পরিচালিত হয়। যেখানে ৬০ শতাংশ নারী, আর ৪০ শতাংশ পুরুষ শ্রমিক অংশ নেন।

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়, কলকারখানা পরিদর্শন বিভাগের পরিদর্শকদের বাড়তি অর্থ ঘুষ দিয়ে প্রায় ৩০ শতাংশ পোশাক কারখানাকে সার্টিফিকেট নিতে হয়েছে।  এছাড়া ৪২ শতাংশ কারখানা কোনো নিয়মের মধ্যে নেই। ৪৫ শতাংশ কারখানা ভাড়ায় চলে। ২৫ শতাংশ কারখানার সার্টিফিকেট নেই।

করোনাকালীন সময়ে তৈরি পোশাক খাতে উচ্চ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে ওই সময় গড়ে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ শ্রমিককে জোর করে কাজ করানো হয়েছে। যেখানে পুরুষ শ্রমিকদের সংখ্যা বেশি ছিল। নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমছে।

পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকদের হার কমেছে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের জীবনমানও উন্নয়ন করা দরকার। সেই সঙ্গে কমপ্লায়েন্স রক্ষা করতে হবে।

কারখানায় নারী শ্রমিক কমে যাওয়ার যুক্তি হিসেবে শহীদউল্লাহ আজিম বলেন, কারখানায় যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। তাই কমে আসবে শ্রমিকের সংখ্যা। বেশিরভাগ নারী শ্রমিকের দক্ষতার অভাব রয়েছে। সুতরাং শ্রমিকদের টিকে থাকতে হলে এখন থেকেই শ্রমিক দক্ষতা বাড়াতে হবে।

তৈরি পোশাক শিল্পের করোনার টিকার প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৪ দশমিক ৩ শতাংশ শ্রমিক করোনার টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন মাত্র ২০ শতাংশ শ্রমিক। যাদের ওপর জরিপ করা হয় তারা কেউ বুস্টার ডোজ নেননি।

শ্রমিকদের টিকা নেওয়ার বিষয়ে কারখানার মালিকপক্ষ ও খাত সংশ্লিষ্টরা বলেন, শ্রমিকদের টিকা নিতে গেলে তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় লাগে, এত সময় ব্যয় করে তারা টিকা নিতে আগ্রহ হয় না। তাই করোনাকালীন সময়ে সরকারিভাবে যে উদ্যোগে প্রথম ডোজ দিয়েছিল, সেটা চলমান রেখে দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

দেশে এক হাজার ১৩৪টি পোশাক কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন আছে। আসলে কি ট্রেড ইউনিয়নে শ্রমিকদের কোনো উপকার হচ্ছে এটা নিয়ে গবেষণা করা দরকার? ট্রেড ইউনিয়নের কাজ শুধু আন্দোলন নয়, শ্রমিক মালিকের মধ্যে সমন্বয় করা। কিন্তু আমাদের এখানে তা হয় না। কারখানার শ্রমিকরা নিজ উদ্যোগে ট্রেড ইউনিয়ন করেন না। বাইরের লোকজন এটা করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মালিক পক্ষ।

তবে শ্রমিক নেতারা জানান, এ পর্যন্ত যেসব শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের উদ্যোগ নিয়েছে তাদেরই চাকরি হারাতে হয়েছে।

মাতৃত্বকালীন ছুটিতে বৈষম্যের অভিযোগ করে শ্রমিকরা জানান, সরকারি অফিসে মাতৃত্বকালীন ছুটি ৬ মাস। এছাড়া কাগজে কলমে মাতৃত্বকালীন ৪ মাসের ছুটির কথা থাকলেও তা বেশিরভাগ শ্রমিক পান না। অনেকক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি নয়, চাকরি ছেড়ে দিতে হয়।

সেমিনারে শ্রমিক নেতা মন্টু ঘোষ বলেন, বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। শ্রমিকের জীবনে সংকট বাড়ছে। চার বছর আগে মজুরি বাড়ানো হয়েছে। মজুরি বোর্ডের মাধ্যমে মজুরি বাড়ানোর কথা এখনো সরকার বিবেচনা করছে না। যত দ্রুত সম্ভব মজুরি বাড়ানো আবশ্যক।

সব খাতেই ট্রেড ইউনিয়ন সংকট বিদ্যমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের হাতে ট্রেড ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ থাকে, যার কারণে শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। এ সময় তিনি দু-এক মাসের মধ্যে শ্রমিকদের রেশনের উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

আরইউ
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement