নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল মৌজার ঐতিহাসিক খেলার মাঠটিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ কাজের উপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এছাড়াও, জেলা প্রশাসকের অবৈধ ও স্বেচ্ছাচারী উপায়ে ঐতিহাসিক খেলার মাঠের শ্রেণি পরিবর্তন কেন বেআইনী ঘোষণা করা হবে না এবং কেন ঐতিহাসিক বলাইশিমুল মাঠটিকে মাঠ হিসেবে সংরক্ষণ করতে নির্দেশ দেওয়া হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে সরকারের উপর রুল জারি করেছেন।
রোববার বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত এক জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানী শেষে এ রুল জারি করেন।
সেই সঙ্গে এ বিষয়ে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে নেত্রকোণা জেলা প্রশাসককে নির্দেশ প্রদান করেছেন হাইকোর্ট।
বেলা'র পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শ্রী অরবিন্দু কুমার রায়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত ৩৬টি ঘরের পরিবর্তে কেবল মাত্র ১২টি নির্মিতব্য ঘরই এ মাঠে থাকবে। এর প্রেক্ষিতে আদালত বলেন, নিম্ন আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মাঠের শ্রেণি পরিবর্তন ক্ষমতার অপব্যবহার।
কেন্দুয়া উপজেলাধীন বলাইশিমুল মৌজার “খেলার মাঠ” হিসেবে চিহ্নিত ১ দশমিক ৮০ একর ভূমি থেকে শুন্য দশমিক ৪৬ একর ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে আশ্রয়ণ প্রকল্প করার উদ্যোগ নিলে স্থানীয় এলাকাবাসী খেলার মাঠের শ্রেণি পরিবর্তন না করার
দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করে। এলাকাবাসীর আবেদন উপেক্ষা করে খেলার মাঠের শ্রেণি পরিবর্তন প্রক্রিয়া চলমান রাখলে এলাকাবাসী গত ৩০ মে কেন্দুয়া সহকারী জজ আদালতে উল্লেখিত ভূমিতে এলাকাবাসীর বর্ত্ত্বস্বত্ত্ব ঘোষণা ও খেলার মাঠ হিসেবে চিহ্নিত শ্রেণি পরিবর্তনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার দাবিতে একটি মামলা দায়ের করে।
এ মামলায় গ্রামবাসীর নিষেধাজ্ঞার আবেদন বিজ্ঞ সহকারী জজ আদালত গত ০৫ জুন নামঞ্জুর করেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মিস আপীল দায়ের করলে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত ১৮ জুলাই আগের আদেশ বহাল রেখে রায় প্রদান করেন এই যুক্তিতে যে, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক খেলার মাঠের শ্রেণি পরিবর্তন করেছেন।
বেলা’র মামলার প্রাথমিক শুনানীকালে হাইকোর্ট ডেপুটি এটর্নী জেনারেলকে এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরতে নির্দেশ দেন।
এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় এলাকাবাসী বেলা’র নিকট আইনী সহযোগীতা চেয়ে আবেদন করলে জনস্বার্থে বেলা উল্লেখিত রীট পিটিশনটি দায়ের করে।