লাল শাপলা বিলের অবস্থান বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়ের পাদদেশে। সিলেটের জৈন্তাপুরের স্থানীয় ভাষায় প্রাকৃতিক ভাবেই ৪টি বিল- ডিবি, ইয়াম, হরফকাট ও কেন্দ্রীবিলসহ ৯০০ একর বা ৩ দশমিক ৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়েই লাল শাপলার ‘রাজ্য’ গড়ে ওঠেছে। যেখানে প্রতিদিন ভিড় করেন পর্যটকরা।
বিলের পাশে বসে ফুটে থাকা অজস্র লাল শাপলার রূপে মজে থাকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আর নৌকা দিয়ে বিলের মাঝে গেলে তো কথাই নেই। লতা-পাতা-গুল্মে ভরা বিলের পানিতে ভেসে থাকা লাখ লাখ লাল শাপলার মাঝে আপনার অবস্থান। প্রকৃতির আপন খেয়ালে গড়ে উঠা সৌন্দর্য বুঝি এমনই হয়।
জানা যায়, সিলেটের জৈন্তাপুর হয়ে জাফলং ঘুরতে যাওয়ার সময় পর্যটকরা লাল শাপলার বিলে ঢুঁ মেরে যান। অনেকে কেবল লাল শাপলার বিলের সৌন্দর্য দেখতে আসেন। দিন কাটিয়ে দেন এখানেই। প্রতি বছর অসংখ্য পরিযায়ী পাখি আসে এই হাওরে। তন্মধ্যে- বালিহাঁস, পাতিসরালি, পানকৌড়ি, সাদাবক দেখতে পাওয়া যায়।
পৌরানিক জৈন্তিয়ার বর্তমান নাম জৈন্তাপুরকে গোয়াইনঘাট উপজেলা থেকে আলাদা করেছে তামাবিল সংলগ্ন নলজুড়ি নামক খাল। এর আগেই জৈন্তাপুর ডিবির হাওরসহ ৪টি হাওরে গড়ে উঠেছে শাপলার রাজ্য।
কীভাবে যাবেন
সিলেট থেকে সিলেট-তামাবিল সড়কপথে বাস, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাসে নিয়ে যেতে পারবেন। জৈন্তাপুর উপজেলা সদর ছেড়ে তামাবিল স্থল বন্দরে যাওয়ার আগেই সড়কের ডান পাশে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ডিবির হাওর বিশেষ ক্যাম্প দেখা যাবে। ক্যাম্পের পাশ দিয়ে কাঁচা রাস্তায় প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার পথ পেরোলেই চোখে পড়বে শাপলা বিল। নৌকায় লাল শাপলার বিল ঘুরতে ভাড়া নেবে ৩০০ টাকা।
-এমএ