ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
ঘুরে আসুন অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা রাঙ্গাবালী
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০, ৪:৩২ পিএম

চারপাশে নদী, মাঝখানে দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালী। পটুয়াখালী জেলার এ উপজেলায় রয়েছে সোনার চর, জাহাজমারা তুফানিয়াসহ বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। যা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য খুবই আনন্দদায়ক। তবে যারা রাঙ্গাবালীর সোনার চর ভ্রমণ করতে পারেননি, তারা একবার হলেও ভ্রমণের চেষ্টা করে দেখতে পারেন সৌন্দর্যের লীলাভূমি এ দ্বীপে।

ভোরের শুভ্র বাতাসে সাদা মেঘগুলো এক অপূর্ব সৌন্দর্যে ভরপুর হয়ে ওঠে। চোখ জুড়ানো, মন ভোলানো দৃশ্য দিয়ে প্রকৃতি যেন সৃষ্টি করেছে সোনার চরকে। সূর্যোদয়, সূর্যাস্তের দৃশ্য ছাড়াও রং-বেরঙের নানা প্রজাতির পাখির অভয়ারণ্য। পাখির রাজত্ব বললে অত্যুক্তি হবে না। দখিনা বাতাসে নদীর কুলকুল ধ্বনি। আবার বিনা বাতাসে হুমড়ি খেয়ে পড়া ঢেউ। জেলের নৌকা, ট্রলার ঢেউয়ের উপর নাগরদোলা চাপিয়ে ঢেউয়ের ফাঁকে অদৃশ্য হওয়া।

বঙ্গোপসাগরের উত্তর প্রান্তে সোনালি এক দ্বীপের নাম সোনার চর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। প্রকৃতি যেন তার নিজের হাতে সৃষ্টি করেছে। দিনের শুরুতেই চোখে পড়ে পুব সাগরে ডিমের কুসুমের মত লাল গোলাকার পিণ্ড। সাগরের বুক চিড়ে ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে। সারাদিন বিকিরণ শেষে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে লাল গোলাকার পিণ্ডে পরিণত হয়। পানির মধ্যে যেতে যেতে একসময় টুপ করে ডুব দেয়। মনে হয় যেন পাতালপুরীর রাজবাড়ির অতিথি। এ দৃশ্য কার চোখ না জুড়ায়।

বন বিভাগের ছায়াঘেরা সবুজ বেষ্টনীতে নানা আকারের ছইলা, কেওরা, গাওয়া, বাইন গাছ। আরও আছে গোলপাতা, হারগুজি, তাম্বুরা কাটার ঝোপঝাড়। যা ডাহুক, কোড়া, ছেনিসহ (স্থানীয় নাম) নাম না জানা পাখির অভয়ারণ্য। গাছে গাছে রং-বেরঙের পাখি আপনমনে সুর দিয়ে যায়।

বিকেল গড়িয়ে এলেই বক, সারস, শামুকখোল, মদনটাক ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে আশ্রয় নেয় বড় গাছের মগডালে। তাদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে চর। গভীর রাতে কুক্কা পাখির ‘পুতপুত’ ডাক আর ডাহুক-ডাহুকির ‘কোয়াক কোয়াক’ সুর জানিয়ে দেয় রাত ১২টা। ঘড়ির কাঁটার সাথে মিলিয়ে দেখা যায়, দু’চার মিনিটের বেশি ব্যবধান হয় না।

দক্ষিণ-পূর্বে বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে ডুবোচর। ভর জোয়ারে এসব এলাকা পানিতে ডুব দিয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। বিনা বাতাসে ঢেউ এসে হুমড়ি খেয়ে পড়ে বালুচরে। এর মাঝে উড়োহাঁস, কয়াল, গাংচিলরা দলবেঁধে সাঁতার কাটে। শতশত জেলে নৌকা, ট্রলার ব্যস্ত হয়ে ওঠে জাল ফেলার তাগিদে। জাল ফেলে স্রোতের টানে চলে যায় দূর থেকে বহুদূরে।

শেষ ভাটায় বিশাল এলাকাজুড়ে আবার জেগে ওঠে বালুচর। রোদের আলোয় ঝিকিমিকি সোনালি রং ছড়িয়ে দেয় চারিদিকে। শুরু হয় নানা প্রজাতির পাখির আগমন ও কলতান। গাংচিল, চকোয়া, কেচিকাটা, কন্যাসি, বক, সারসরা (স্থানীয় নাম) ভিন্ন ভিন্ন দলে বসে যেন গল্পে মেতে ওঠে। কেউবা হাঁটুজলে খাদ্য সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে।

সোনার চরে আছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আকর্ষণীয় দৃশ্য ও মনোরম পরিবেশ। তাই নিত্য নতুন পর্যটকরা আসেন ওই চরে। শীত মৌসুমে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জেলেরা এসে অস্থায়ী আস্তানা করে শুঁটকি সংগ্রহ করেন। বালুর ওপর দোচালা বাসা তৈরি করে সাগরে জাল ফেলে ধরা সাদা চিংড়ি, টাইগার চিংড়ি, চাকা, চালি, বৈরাগি ও চেউয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি সংগ্রহ করে।

তবে ফাল্গুন এলেই দখিনা বাতাসে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। জেলেদের আর জাল ফেলা সম্ভব হয় না। তখন সব গুটিয়ে যে যার ঠিকানায় পারি জমান।

এসআর
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝