বিশ্বব্যাপী পিএইচপি ল্যাঙ্গুয়েজ বাগের কারণে সৃষ্ট সফটওয়্যার জটিলতায় সারা বিশ্বে যেমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তেমনি এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এবার এই প্রযুক্তিগত ত্রুটির তালিকায় হুমকির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এমআইএস সফটওয়্যারটি। ফলে চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মুক্তিযোদ্ধা ভাতা নির্ধারিত সময়ে অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি; এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ভাতা পাননি মুক্তিযোদ্ধারা।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংবলিত এমআইএস (mis.molwa.gov.bd) ওয়েবসাইটটি কারিগরি জটিলতার কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। কারিগরি ত্রুটি নিরসন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সফটওয়্যারটি পুনরায় চালু করা হবে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য মন্ত্রণালয় দুঃখ প্রকাশ করেছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে ভাতা পেয়ে আসলেও অক্টোবর মাসের অর্থ সময়মতো অ্যাকাউন্টে না থাকায় চরম আর্থিক সংকটে ও ভোগান্তিতে পড়েছেন বয়োবৃদ্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধারা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা। ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে ভাতা চলে আসলেও এবার প্রযুক্তিগত জটিলতা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ায় এ নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের চড়া বাজারমূল্যের এই সময়ে ওষুধপত্র কেনা এবং দৈনন্দিন চলাচলের খরচ মেটাতে গিয়ে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন বহু অসচ্ছল ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা। দ্রুত এই জটিলতা নিরসন করে বকেয়া ভাতা পরিশোধের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভাতা স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শাকিলুজ্জামান দ্য ডেইলি অবজারভারকে জানান, "এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার বা গুজবে কান দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগ জটিলতা নিরসনে নিরলস কাজ করছে। আমরা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ও সামগ্রিক বিষয়ে সবসময়ই সচেতন আছি। আশা করা হচ্ছে, খুব দ্রুতই কারিগরি জটিলতার সমাধান হবে এবং সমাধান হওয়া মাত্রই মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে।"
এদিকে শুধু প্রযুক্তিগত জটিলতাই নয়, এর পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি ভাতা বিতরণ কার্যক্রম আরও সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট যাচাই-বাছাই কমিটিগুলো জরুরি ভিত্তিতে পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
গত ১ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখা-২ থেকে জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার মাঠপর্যায়ের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা বিতরণ আদেশ, ২০২০’-এর ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বা সুবিধাভোগীদের সম্মানি ভাতা পাওয়ার আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা কমিটি এবং মহানগর পর্যায়ে মহানগর কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদেশ ও নির্দেশনার আলোকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত এই কমিটি গঠনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে কারিগরি ত্রুটি ও প্রশাসনিক এই প্রক্রিয়াগুলো কবে নাগাদ পুরোপুরি শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময় জানা যায়নি।
এসএ