মেয়েশিশু ও কিশোরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নেতৃত্ব বিকাশ এবং ক্ষমতায়নের পথে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘আইডিজি কার্নিভাল ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর একটি হোটেলে ‘শিকড়ের শক্তিতে, এগিয়ে যাক প্রতিটি কিশোরী’ প্রতিপাদ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়তে সরকার নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা ও নারীর ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোরও কার্যকর ভূমিকা রয়েছে।
তিনি বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় সেভ দ্য চিলড্রেনের অভিজ্ঞতা, সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি সরকারের পাশে থেকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নেদারল্যান্ডস রাজ্যের দূতাবাসের অর্থায়নে এবং জাতীয় যুব নেটওয়ার্ক (এনওয়াইএন) ও নারী নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের ‘SWOCCHAR’ প্রকল্পের আওতায় এ কার্নিভালের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মেয়েশিশু ও কিশোরীদের সম্ভাবনার বিকাশ, নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, মাহমুদা হাবিবা ও মনসুরা আক্তার। এ ছাড়া জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ কার্যালয়ের কিশোর-কিশোরী ও যুব কার্যক্রমের প্রধান ড. ইলিজা আজেই উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মেয়েশিশু ও কিশোরীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নেতৃত্ব, উদ্যোক্তা কার্যক্রম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই সঙ্গে কিশোরীদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে পরিবার, সমাজ, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
আয়োজকেরা জানান, সেভ দ্য চিলড্রেন বাংলাদেশের ‘SWOCCHAR’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ মেয়েশিশু ও কিশোরীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষমতায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে আরও জোরদার করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। কিশোরীদের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি, তাদের কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে আরও সমতাভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
-টিএস