সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজনের আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়।
আয়কর নথি জব্দের আদেশ হওয়া অন্যরা হলেন-সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক সাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও কর আপিলের সদস্য রওশন আরা আক্তার।
দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) অনুকূলে বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ, অবৈধভাবে আয়কর সুবিধা দেওয়া এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২৩টি কোম্পানির কাছ থেকে সিআরআইয়ের হিসাবে ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা হয়েছে। ২০১৩-১৪ থেকে ২০২৩-২৪ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর মধ্যে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে। এসব হিসাবে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি করার অভিযোগও রয়েছে।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সিআরআইকে আয়কর সুবিধা দিতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধভাবে কর সুবিধা দেওয়া, বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টিআইএন নম্বরের বিপরীতে সংরক্ষিত ২০২৫-২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দের আবেদন জানানো হয়। পরে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
টিআই