চীনের প্রতিষ্ঠাতা নেতা মাও সেতুংকে নিয়ে ‘বিবেচনাহীন’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।
তাঁর মন্তব্য ঘিরে চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ফরাসি ফুটবল তারকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। এ ঘটনায় চীনা সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে স্প্যানিশ ফুটবল লিগ লা লিগাও।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এমবাপ্পে বলেন, তাঁর মন্তব্যটি বিবেচনাহীন ছিল। এতে চীনের অনেক মানুষ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী চীনা সম্প্রদায়ের সদস্যরা কষ্ট পেয়েছেন বলে তিনি এখন বুঝতে পারছেন। তাঁর কথায় যাঁরা আঘাত পেয়েছেন, তাঁদের সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি।
সোমবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে এমবাপ্পেকে নিজের দেখা সবচেয়ে মজার মিম নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর মুখ এমন এক ব্যক্তির ছবিতে বসানো হয়েছিল, যাঁকে তিনি ‘চীনের কোনো এক স্বৈরশাসক’ বলে মনে করেছিলেন। ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
মন্তব্যটি মাও সেতুংকে নিয়ে তৈরি একটি মিমের প্রতি ইঙ্গিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই মিমে মাওয়ের ছবির ওপর এমবাপ্পের মুখ বসানো হয়েছিল। ফুটবল তারকাকে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের ছবিতে বসিয়ে এ ধরনের আরও মিম তৈরি করা হয়েছে।
১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৭৬ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশটির নেতৃত্বে ছিলেন মাও সেতুং। চীনে তাঁকে নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যকে অসম্মানজনক হিসেবে দেখা হয়, ফলে বিষয়টি দেশটির সামাজিক পরিসরে সংবেদনশীল।
এমবাপ্পের মন্তব্যের প্রভাব পড়েছে তাঁর বাণিজ্যিক অংশীদারত্বেও। চীনের দুগ্ধজাত পণ্য প্রস্তুতকারক মেংনিউ, সাংহাই মিল্কগ্রাউন্ড ফুড টেক এবং পানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইস্টড্রক বেভারেজ জানিয়েছে, এমবাপ্পের সঙ্গে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা অবিলম্বে বন্ধ করা হচ্ছে। চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন আচরণ তারা সহ্য করবে না বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
চীনের রাষ্ট্রসমর্থিত সংবাদমাধ্যম দ্য পেপারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন লা লিগা ও এমবাপ্পে-সংশ্লিষ্ট ম্যাচ এবং অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ করেছে। একই সঙ্গে এমবাপ্পেকে নিয়ে বিজ্ঞাপনও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রসমর্থিত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসও তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছে। চীনের বাজার থেকে মুনাফা করার পাশাপাশি দেশটির মানুষকে অসম্মান করা গ্রহণযোগ্য নয়।
চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতেও এমবাপ্পেকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টা পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে চারটি বিষয় জনপ্রিয় অনুসন্ধানের শীর্ষ ১০-এ ছিল। কিছু ব্যবহারকারী তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করা এবং চীনে তাঁর বাণিজ্যিক মূল্য শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে লা লিগা জানিয়েছে, এমবাপ্পের মন্তব্যে চীনা সমর্থকদের মনে যে আঘাত লেগেছে, তা নিয়ে তারা গভীরভাবে দুঃখিত। সংস্থাটি বলেছে, মন্তব্যগুলো এমবাপ্পের ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে লা লিগার কোনো সম্পর্ক নেই।
লা লিগার সভাপতি হাভিয়ের তেবাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ক্ষমা চেয়েছেন। চীনের অংশীদার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য পেপার
এসএস