ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগর উপজেলা
হয়নি ইটভাটা বন্ধ, পরিবেশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন দুই এমপি
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম আপডেট: ১৭.১০.২০২৬ ৬:৫৩ পিএম
 ছবি অবজারভার
X
Advertisement

ছবি অবজারভার

আদালতে রিট করেও বন্ধ করা যায়নি লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগরের অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম।  এবার দুই উপজেলায় প্রায় ৬৩টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পরিবেশমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন জাতীয় সংসদের দুই সদস্য। তাঁদের দাবি, অবৈধ ইটভাটার কারণে হুমকির মুখে পড়ছে কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য; ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সড়কও।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর কাছে পৃথক চিঠি দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন।

পৃথক চিঠিতে তাঁরা অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কাটা বন্ধ, নিষিদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার রোধ এবং অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে চিঠি দুটি প্রকাশ করেন তাঁরা।

চিঠিতে দুই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, ইটভাটার জন্য কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি সংগ্রহের ফলে জমির উর্বরতা কমে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ইটভাটার ধোঁয়া ও ধুলাবালি বায়ুদূষণ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষ করে শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী, বয়স্ক ব্যক্তি ও শ্বাসতন্ত্রের রোগীদের জন্য এ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

ইট ও মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত অতিরিক্ত মালামালবোঝাই ট্রাক্টর-টলি ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের চলাচল নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এসব যানবাহনের কারণে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জনদুর্ভোগ বাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেন, রামগতি ও কমলনগরের বহু মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হলে জমির উৎপাদনক্ষমতা কমে কৃষকেরা দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিবেশের ভারসাম্য ও টেকসই উন্নয়নের জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, বীথিকা বিনতে হোসাইন ইটভাটায় ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগ যাচাই করে অননুমোদিত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নিষিদ্ধ জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ, পরিবেশগত পরিদর্শন এবং অতিরিক্ত ভারবাহী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা আশা করেন তিনি।

আইন থাকলেও বাস্তবায়ন কতটা কার্যকর?

ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশে রয়েছে ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’। এ আইনের ৫ ধারায় ইট তৈরির জন্য কৃষিজমির মাটি ব্যবহারসহ নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আইনটির ১৫ ধারায় সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘনের শাস্তির বিষয়ও উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩ অনুযায়ী প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিধান অনুসরণ করতে হয়। ফলে ইটভাটাগুলোর অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র, অবস্থান এবং জ্বালানি ব্যবহারের বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

তবে রামগতি ও কমলনগরের আলোচিত ইটভাটাগুলোর মধ্যে কতগুলো বর্তমানে চালু, কতগুলোর অনুমোদন নেই এবং কতগুলো আইন লঙ্ঘন করছে তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হালনাগাদ তথ্য ও সরেজমিন তদন্ত প্রয়োজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের দাবিতে ২০২৪ সালে উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করা হয়। একই বিষয়ে ২০২৬ সালেও আরেকটি রিট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মামলা ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ সত্ত্বেও ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

দুই সংসদ সদস্য ইটভাটাগুলোর তালিকা তৈরি, সরেজমিন তদন্ত, অনুমোদন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র যাচাই এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

চিঠির অনুলিপি পরিবেশ অধিদপ্তর, লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক এবং রামগতি ও কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। বীথিকা বিনতে হোসাইনের চিঠির অনুলিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরিবেশ, কৃষিজমি ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সালমান ইমন/টিআই
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement