গাজীপুরের শ্রীপুরে এক মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে নয়জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এমসি বাজার এলাকায় সি স্টেজ (বিডি) লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকদের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীপুরের মুলাইদ এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকেরা। তাঁদের অভিযোগ, সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি কারখানা কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে নয়জন আহত হন।
আহতদের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাবিকুন্নাহার ইতি জানান, আহত নয়জনের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
শ্রমিকেরা জানান, গত ১০ অক্টোবর বকেয়া বেতনের দাবিতে আন্দোলনের পর কারখানা কর্তৃপক্ষ ১৩ অক্টোবর বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বেতন না পাওয়ায় তাঁরা আবারও আন্দোলনে নামেন। বারবার দাবি জানিয়েও সমাধান না পেয়ে বৃহস্পতিবার মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা।
অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও চালকেরা। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, আন্দোলনের দিন কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কারখানার মেশিনপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। তবে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন এ অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, বকেয়া বেতনের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়ে শ্রমিকদের মহাসড়ক থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল। তাঁরা অবরোধ অব্যাহত রাখায় রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়। মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বেতনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে, বক্তব্য জানতে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এফএস