যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কিম্বারলি গিলফয়েল গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এক রাজনৈতিক দাতার কাছে ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের জন্য ১ লাখ ডলার চাওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ প্রকাশের পর এ ঘটনা ঘটেছে। তবে গিলফয়েল অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস জানায়, গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত বার্তার ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সিনেটে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের অনুমোদনসংক্রান্ত শুনানির কয়েক দিন আগে রিপাবলিকান দলের দাতা এরিক ডিটার্সের কাছে ১ লাখ ডলার চেয়েছিলেন গিলফয়েল। অর্থটি তাঁর আমেরিকান এক্সপ্রেস ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ডিটার্সের দাবি, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সহায়তার বিষয়টিও ওই আলোচনায় ছিল। তবে তিনি অর্থটি দেননি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, গিলফয়েলের আইনজীবী অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট বার্তাগুলোর ব্যাখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়া জানান, গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে। ট্রাম্পও তাঁর সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষের কথা জানিয়েছিলেন।
গিলফয়েল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে অভিযোগগুলোকে মিথ্যা বলে দাবি করেন। নিজের নাম, সুনাম ও সততা রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে উপহার ও ভ্রমণসংক্রান্ত সুবিধা গ্রহণ এবং গ্রিসের একটি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ভূমিকা রাখার অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মহাপরিদর্শক কার্যালয়ের পর্যালোচনা বা তদন্তের খবর পাওয়া গেছে।
তবে অভিযোগগুলো এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের ফলাফল পৃথক বিষয়। তদন্ত বা পর্যালোচনা চলমান থাকলে তার ফল প্রকাশের আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।
গিলফয়েল ২০২৪ সালে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হন এবং ২০২৫ সালে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাবেক বাগদত্তা।
এফএস