মাত্র ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা। শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ১২ মিনিট থেকে রাত ১টা ২৭ মিনিটের মধ্যে মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্য অনুযায়ী, রাত ১২টা ১২ মিনিটে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় প্রথম ভূমিকম্পটি হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৯। কক্সবাজার-টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকা ও চট্টগ্রামে এর কম্পন অনুভূত হয়।
এর মাত্র এক মিনিট পর, রাত ১২টা ১৩ মিনিটে ভারতের মিজোরাম রাজ্যের লুংলেই এলাকায় দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ০। চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী ও নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ কম্পন অনুভূত হয়।
এরপর রাত ১টা ২৭ মিনিটে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা এলাকায় তৃতীয় ভূমিকম্পটি হয়। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৮। এ কম্পন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদুভাবে অনুভূত হয়।
স্বল্প সময়ের মধ্যে পরপর তিনটি ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পগুলোর উৎপত্তিস্থল ছিল বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমার ও ভারতের বিভিন্ন এলাকায়। প্রথমটি মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে, দ্বিতীয়টি ভারতের মিজোরামের লুংলেই এবং তৃতীয়টি ত্রিপুরার আগরতলা এলাকায় সংঘটিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে পরপর কয়েকটি ভূমিকম্প হওয়া মানেই বড় ধরনের ভূমিকম্প আসন্ন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। তবে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় এ ধরনের কম্পন ভূমিকম্পের ঝুঁকি ও প্রস্তুতির বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে আসে।
এফএস