সরকার নির্ধারিত মূল্যে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ১৬ জেলায় একযোগে পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ২৩টি টিম ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করে। বাজারে এলপিজির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় এ তদারকি কার্যক্রম চালানো হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে যাতে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ডিলার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতারা নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন কি না, তা যাচাই করা হয় অভিযানে।
তদারকি কার্যক্রমের সময় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে কি না, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও ক্রেতাকে দেওয়া হচ্ছে কি না এবং সিলিন্ডারের নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, এসব বিষয় পরীক্ষা করা হয়।
এ ছাড়া মেয়াদোত্তীর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হয়। ব্যবসায়ীদের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এলপিজি নিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে সিলিন্ডার মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাজারে কোনো ধরনের কারসাজি বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
এলপিজির বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে দাম নিয়ে ভোক্তাদের নানা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে ডিলার থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা। সব পর্যায়েই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এলপিজি সিলিন্ডার কেনার সময় ভোক্তাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সিলিন্ডার কেনার আগে ওজন, সিল, মেয়াদ এবং বাইরে কোনো দৃশ্যমান ত্রুটি রয়েছে কি না, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে কেনার আগে দোকানে প্রদর্শিত মূল্যতালিকা দেখে নেওয়া এবং পণ্য কেনার পর অবশ্যই রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে অতিরিক্ত দাম নেওয়া বা অন্য কোনো অনিয়মের ক্ষেত্রে অভিযোগ প্রমাণ করা সহজ হবে।
গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম, অতিরিক্ত দাম আদায় কিংবা ভোক্তার অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা চোখে পড়লে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, এলপিজির স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে সিলিন্ডার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এফএস