ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
৫৩ কোটি টাকার পানি প্রকল্পেও পানির হাহাকার
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ প্রকল্পে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও অনিয়মিত পানি সরবরাহ, বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন পৌরবাসী। এতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির কাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সি.টি.ই.আই.পি প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। গোপালগঞ্জের সিনোকোনোস্ট-এমটি অ্যান্ড এসএস কনসোর্টিয়াম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করে। এ প্রকল্পের আওতায় পৌর শহরে প্রায় ৫৪ কিলোমিটার পানির পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।

পাইপলাইনের মাধ্যমে পৌর এলাকার বাসাবাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলেও বাস্তবে নিয়মিত পানি না পাওয়ার অভিযোগ বাসিন্দাদের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০১৪ সালে কাজ শুরুর সময় থেকেই প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণে নিম্নমানের পাইপ, লোহা, পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। পাম্প হাউজ, বেজ ঢালাইসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজেও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন সময়ে অভিযোগ জানানো হলেও পৌর কর্তৃপক্ষ তা গুরুত্ব দেয়নি বলে দাবি তাদের।

পৌরবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে পানি বের হতে শুরু করে। একই সঙ্গে অনিয়মিত পানি সরবরাহ, দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানির কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। পান করা তো দূরের কথা, দৈনন্দিন কাজেও অনেক সময় এ পানি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘সময়মতো আমরা পানি পাই না। ফলে বাসাবাড়ির কাজ করতে সমস্যা হয়। কখন পানি আসবে, সেই অপেক্ষায় থাকতে হয়। বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে গেলে ফিরে এসে আর পানি পাওয়া যায় না। আমরা খুব সমস্যার মধ্যে আছি।’

নিউমার্কেট এলাকার বাসিন্দা আবির জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, জনগুরুত্বপূর্ণ পানি প্রকল্পে বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় নাগরিকদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। তিনি প্রকল্পের অনিয়মের তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মঠবাড়িয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, ‘প্রকল্পটি প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষ হয়েছে। আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি লাইনের পাইপ ফেটে যাওয়ার খবর আসে। আমরা নিম্নমানের পাইপগুলো মেরামতের চেষ্টা করছি। লো-ভোল্টেজের কারণে সঠিক সময়ে পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয় না। এ কারণে পৌরবাসীকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে গ্রাহকরা সময়মতো পানি পাচ্ছেন না। পূর্বে নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময়ে পাইপ ফেটে যায়। সেগুলো সংস্কার করতে হচ্ছে।’

প্রায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির সুফল নিশ্চিত করতে নিয়মিত পানি সরবরাহ, পাইপলাইন মেরামত এবং প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন পৌরবাসী।

   আরএমএন/এফএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement