যমুনার ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, খেলার মাঠ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গিলে খাচ্ছে উত্তাল যমুনা। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের বারোপাখিয়া গ্রাম ইতোমধ্যে পুরোপুরি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন ভাঙনের তীব্রতা দেখা দিয়েছে পাশের ধিতপুর ও কুরশী গ্রামে। এতে আতঙ্কে দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বারোপাখিয়া গ্রামে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ভোটার ছিলেন। সেখানে তিন শতাধিক বসতভিটা, একটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা ও দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। যমুনার অব্যাহত ভাঙনে এসব স্থাপনার কোনো অস্তিত্বই এখন নেই। পুরো গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মানচিত্র থেকেও হারিয়ে গেছে বারোপাখিয়া।
বারোপাখিয়া বিলীন হওয়ার পর ভাঙন এগিয়ে এসেছে ধিতপুরের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, ধিতপুরে প্রায় ৫০০ বসতঘরের মধ্যে ৩৫০টি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দুটি মসজিদ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি কবরস্থান। এছাড়া কুরশী ধিতপুর গরুর হাট এবং পল্লী বিদ্যুতের একটি অভিযোগ কেন্দ্রও হুমকির মুখে।
পাশের কুরশী গ্রামের অবস্থাও নাজুক। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০০ বসতঘরের মধ্যে দেড় শতাধিক ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
ভাঙনের কারণে শুধু ঘরবাড়িই নয়, হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের ফসলি জমি, খেলার মাঠ ও দীর্ঘদিনের স্মৃতি। অনেক পরিবার শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় বসতঘর সরিয়ে নিচ্ছেন। কোথায় গিয়ে নতুন করে বসতি গড়বেন এ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বারোপাখিয়ার মতো ধিতপুর ও কুরশী গ্রামের অস্তিত্বও একদিন নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো : মিজানুর রহমান ভূইয়া বলেন, যেসব মানুষ নদীভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তাদের তালিকা প্রণয়ন করে পুনর্বাসন ও থাকার ব্যবস্থা করাসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এসএ