ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
‎আজ বিশ্ব ফার্মড অ্যানিম্যালস ডে ‎
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৮ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

আজ ২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ফার্মড অ্যানিম্যালস ডে বা বিশ্ব খামারের প্রাণী দিবস। খামারে পালিত প্রাণীদের জীবনযাপন, প্রাণীকল্যাণ এবং তাদের প্রতি মানুষের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই দিবসটির আয়োজন। বিশ্ব প্রাণী সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দিবসটি ১৯৮৩ সালে শুরু হয়। মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন ২ অক্টোবরকে কেন্দ্র করে দিবসটির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

‎

‎ফার্মড অ্যানিম্যাল বলতে সাধারণত মানুষের প্রয়োজন মেটাতে খামারে পালন বা প্রজনন করা প্রাণীকে বোঝায়। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, শূকর, মুরগি, হাঁসসহ বিভিন্ন প্রাণী এর আওতায় পড়ে। এসব প্রাণী থেকে মাংস, দুধ, ডিমসহ বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে বিশ্বের বহু মানুষের জীবিকা ও খাদ্যব্যবস্থার সঙ্গে এসব প্রাণীর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

‎

‎তবে দিবসটির আলোচনায় শুধু প্রাণীর অর্থনৈতিক গুরুত্ব নয়, তাদের কল্যাণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রাণীরা অনুভূতিসম্পন্ন জীব। তাদের খাদ্য, পানি, চলাফেরা, বিশ্রাম, সামাজিক আচরণ এবং নিরাপদ পরিবেশের প্রয়োজন রয়েছে। প্রাণীকল্যাণের দৃষ্টিকোণ থেকে খামারে এসব প্রয়োজন যথাযথভাবে পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

‎

‎বিশ্ব প্রাণী সুরক্ষা সংস্থার মতে, শিল্পভিত্তিক বা ‘ফ্যাক্টরি ফার্মিং’-এ বিপুলসংখ্যক প্রাণী সীমিত জায়গায় পালন করা হয়। অতিরিক্ত ঘনত্ব, স্বাভাবিক পরিবেশের অভাব এবং দ্রুত উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রাণীদের প্রজনন ও পালনের মতো বিষয়গুলো প্রাণীকল্যাণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৮০ বিলিয়ন স্থলচর প্রাণী কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয় এবং এর বড় একটি অংশ শিল্পভিত্তিক ব্যবস্থায় পালন করা হয়।

‎

‎ফার্মড অ্যানিম্যালস ডে একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে প্রাণী পালনের সম্পর্ক নিয়েও সচেতনতা তৈরি করে। বিশ্ব প্রাণী সুরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, অতিঘনত্ব ও দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মতো কিছু শিল্পভিত্তিক খামার ব্যবস্থাপনা প্রাণীদের মধ্যে রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রাণী ও মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা ওষুধপ্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকিও আলোচনায় আসে।

‎

‎পরিবেশের ওপরও শিল্পভিত্তিক পশুপালনের প্রভাব রয়েছে। প্রাণীর খাদ্য উৎপাদনের জন্য বন ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল পরিবর্তন, পানি ও জমির ব্যবহার এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের মতো বিষয়গুলো এ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে প্রাণীকল্যাণের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়টিও দিবসটির আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

‎

‎খামারের প্রাণীরা বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী নয়। তবে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের স্থানীয়, ঐতিহ্যবাহী ও বিরল জাতের গৃহপালিত প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় কিছু জাত সংরক্ষণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। প্রাণীদের প্রজাতি ও জাতভেদে তাদের স্বাভাবিক আচরণ, সামাজিক প্রয়োজন এবং বসবাসের পরিবেশও আলাদা। তাই একই খামারে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী পালনের ক্ষেত্রেও তাদের আচরণ, জায়গা, জলবায়ু ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন।

‎

‎বিশ্ব ফার্মড অ্যানিম্যালস ডে মূলত মনে করিয়ে দেয়। খাদ্য উৎপাদনের অংশ হলেও খামারের প্রাণীগুলো জীবন্ত ও অনুভূতিসম্পন্ন প্রাণী। তাদের যথাযথ খাদ্য, পানি, চিকিৎসা, নিরাপদ পরিবেশ এবং স্বাভাবিক আচরণের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রাণী পালনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। একই সঙ্গে কৃষক ও খামারিদের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক, স্বাস্থ্যকর ও টেকসই খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও জরুরি।

‎

‎দিবসটির লক্ষ্য তাই শুধু প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি নয়; বরং প্রাণীকল্যাণ, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও খাদ্যব্যবস্থার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে মানুষের সচেতনতা বাড়ানো।

‎

‎এফএস

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement