ফিফা এশিয়ান কাপের লড়াই থেকে চরম হতাশাজনকভাবে বিদায় নিল বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার আক্রমণের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছিল থমাস ডুলির দল। শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে জামাল-হামজারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে ইন্দোনেশিয়া। ১১ মিনিটে রোমেনি ওলের কাটব্যাক থেকে মিচেল লি বাকেরের গোলে স্বাগতিকদের গোল উৎসবের শুরু। ২০ মিনিটে দারুণ এক ব্যাকহিলে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন লি বাকের। ৩২ মিনিটে রিজকি রিধোর গোলে ইন্দোনেশিয়া এগিয়ে যায় ৩-০ ব্যবধানে।
এর মধ্যে গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দুবার দুর্দান্তভাবে বল ঠেকালেও রক্ষণভাগের ভুলে বিপদ কাটেনি। ২৭ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার শমিত সোম। তার জায়গায় নামেন সোহেল রানা।
৩৬ মিনিটে ম্যাচে কিছুটা স্বস্তি ফেরায় বাংলাদেশ। সোহেল রানার লম্বা পাস ধরে বাঁ প্রান্ত দিয়ে উঠে শুকি ইতোফুসার ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন। চলতি আসরে এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম গোল।
তবে সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। এক মিনিট পরই নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লি বাকের। ৪২ মিনিটে ব্যক্তিগত চতুর্থ গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান তিনি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে জাস্টিন হুবনারের গোলে ৬-১ ব্যবধানে পিছিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে একাদশে দুটি পরিবর্তন আনেন কোচ থমাস ডুলি। শুকি ইতোফুসা ও শাহরিয়ার ইমনের বদলে মাঠে নামেন ফারহান আলী ওয়াহিদ ও মিনহাজুল করিম স্বাধীন। তবে চোটের কারণে ৭৩ মিনিটে স্বাধীনকেও মাঠ ছাড়তে হয়। তার পরিবর্তে নামেন শাকিল আহাদ তপু।
দ্বিতীয়ার্ধের বড় একটি সময় গোলরক্ষক শ্রাবণের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ বাংলাদেশকে আরও বড় বিপদ থেকে রক্ষা করে। পাশাপাশি রোমেনি ওলের একটি গোল অফসাইডে বাতিল হওয়ায় ব্যবধানও সাময়িকভাবে আর বাড়েনি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অবশ্য নাটকীয়তা চরমে ওঠে। গ্রুপের অন্য ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে ৬-০ গোলে হারিয়ে ৭ পয়েন্ট সংগ্রহ করে ফাইনালের পথে এগিয়ে ছিল মালয়েশিয়া। ফাইনালে যেতে ইন্দোনেশিয়ার প্রয়োজন ছিল আরও তিন গোল।
৯০ মিনিটে একটি গোল করার পর যোগ করা সাত মিনিটের ইনজুরি সময়ে অবিশ্বাস্যভাবে আরও দুটি গোল করে ইন্দোনেশিয়া। শেষ পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে মালয়েশিয়াকে টপকে ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্বাগতিকরা।
ইন্দোনেশিয়ার গোলবন্যার মধ্যেও ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে রাকিবের ক্রস থেকে গোল করে বাংলাদেশের ব্যবধান কমান ফারহান আলী ওয়াহিদ। ফলে ম্যাচ শেষ হয় ৯-২ ব্যবধানে।
বিশাল ব্যবধানে হারলেও শাহরিয়ার ইমন ও ফারহানের দুটি গোল বাংলাদেশকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ব্যবধানে হারের লজ্জা থেকে রক্ষা করেছে। এই দুটি গোল না হলে ১৯৭৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ১৯৮২ সালে ইরানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৯-০ গোলের হারের রেকর্ডের সঙ্গে আবারও নাম জড়িয়ে যেত।