যুক্তরাজ্যের লিভারপুলে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনের বাইরে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর সমর্থনে বিক্ষোভ থেকে অর্ধশতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার সম্মেলনকেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভের আয়োজন করে ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির সমর্থনে বিভিন্ন লেখা ও ব্যানার প্রদর্শন করছিলেন।
প্রায় ২৫০ বিক্ষোভকারী সম্মেলনকেন্দ্রের বাইরে বসে সংগঠনটির সমর্থনে লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন। পরে পুলিশ তাদের ব্যানার সরিয়ে নিতে বললে কয়েকজনকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সরকার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর সংগঠনটির প্রতি সমর্থন প্রকাশের অভিযোগে দেশটিতে ৩ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ গ্রেফতার হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের একজন আল জাজিরাকে বলেন, গাজায় মানুষের যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, তার তুলনায় গ্রেফতার হওয়া কিছুই নয়। তার দাবি, এই বিক্ষোভ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের বিষয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যুক্তরাজ্যের প্রধান নির্বাহী কেরি মস্কোগিউরি বিক্ষোভকে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের কার্যকর মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি গ্রেফতারের ঘটনাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলে মন্তব্য করেন এবং নতুন প্রধানমন্ত্রীকে এ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানান।
এদিকে লিভারপুলের একটি রেস্তোরাঁয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মুখোমুখি হন কয়েকজন কর্মী। তারা ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান। মিলিব্যান্ড কোনো মন্তব্য না করায় পরে তারা সেখান থেকে চলে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা আইনসম্মত বিক্ষোভের অধিকারকে সম্মান করে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখার দায়িত্বও তাদের রয়েছে।
লিভারপুলে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয় লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম দিনে। সংগঠনটির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে সরকারের অবস্থান পরিবর্তনের দাবি সম্মেলনকেন্দ্রের বাইরের বিক্ষোভে প্রধান হয়ে ওঠে।
এফএস