ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নিরাপদে দেশে ফেরার দাবিতে এবং দ্রুত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের আহ্বানে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।
রোববার রাজধানী কারাকাসে শত শত মাচাদো-সমর্থক মোটরসাইকেল নিয়ে সড়কে বের হন। তারা ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা ও মাচাদোর রাজনৈতিক দলের আকাশি নীল রঙের পোশাক পরে স্লোগান দেন। একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে ভ্যালেন্সিয়া, মারাকাইবো ও মেরিদাসহ বিভিন্ন প্রাদেশিক শহরে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, মাচাদোকে নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগ দিতে হবে এবং গণতান্ত্রিক ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ তৈরি করতে দ্রুত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
মাচাদোর দলীয় কর্মী ফ্লাভিও ভ্যালেন্তিনি কারাকাসের সমাবেশে বলেন, “এটি কোনো দল বা রাজনীতির বিষয় নয়। এটি জনগণের আন্দোলন, জনগণের জন্য এবং জনগণের মাধ্যমে পরিচালিত।”
বিক্ষোভের সময় মাচাদোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ক্লদিয়া মাসেরোও নির্বাসন থেকে ভেনেজুয়েলায় ফেরেন। কারাকাসের বিমানবন্দরে সমর্থকেরা তাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “দেশে ফেরার সময় এসেছে। দেশকে পুনরুদ্ধারের সময় এসেছে।”
তবে মাচাদো নিজে কবে দেশে ফিরতে পারবেন, তা তিনি জানেন না বলে জানান মাসেরো। তার ভাষায়, মাচাদো প্রতিদিন দেশে ফেরার চেষ্টা করছেন।
মাচাদো গত নয় মাস ধরে নির্বাসনে রয়েছেন। বিরোধী কর্মীদের দাবি, সরকার তার দেশে ফেরার পথ আটকে দিয়েছে। তবে সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মাচাদোর দল জানিয়েছে, তিনি দেশে ফেরার তিনটি ব্যর্থ চেষ্টা করেছেন।
মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে আদালতের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। পরে তার সমর্থিত বিকল্প প্রার্থী নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন বলে বিরোধীরা দাবি করে।
তবে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নির্বাচনে জয় দাবি করেন। ফলাফল নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হলে বিরোধীদের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের অভিযোগ ওঠে। মাচাদোসহ বিরোধী দলের বহু নেতা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে মাদুরোকে ভেনেজুয়েলা থেকে নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির নেতৃত্বে আসেন দেলসি রদ্রিগেস। তিনি গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেন। তবে নির্বাচনের কোনো তারিখ জানাননি।
রদ্রিগেস বলেন, তার সরকার বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পূর্ণ গণতন্ত্রে ফেরার চেষ্টা চলছে।
বিরোধী সমর্থকেরা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণার পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবিও তুলেছেন।
এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে দুই দফা আলোচনা হয়েছে। গত সপ্তাহে দ্বিতীয় দফা আলোচনার পর তিন ডজনের বেশি রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার বিরোধীরা বলছে, এসব পদক্ষেপকে আরও এগিয়ে নিয়ে গিয়ে অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
মাচাদোর দলীয় নেতা অ্যান্থনি রোমেরো বলেন, চলমান প্রক্রিয়া এমন একটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত, যার মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলা প্রতিষ্ঠিত হবে।
এদিকে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি দেশটির বিচারব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। এর আগে আগস্টে অনুষ্ঠিত আলোচনায় দেশটির সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছিল।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে বিরোধী নেতাদের দেশে ফেরা, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন। এই তিনটি বিষয় এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এফএস