বিশ্ব দৃষ্টি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ও ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে চালকদের জন্য বিশেষ দৃষ্টি পরীক্ষা ও বিনামূল্যে চশমা বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ডিটিসিএ ভবনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা এবং চালক ও যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করাই ছিল এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০০ জন চালক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় তাদের দৃষ্টি পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে মোট ১ হাজার চালককে এ সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, “নিরাপদ সড়ক শুধু উন্নত অবকাঠামো বা কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে না; এর সঙ্গে চালকদের স্বাস্থ্য, সক্ষমতা ও দৃষ্টিশক্তিও সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই চালকদের নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সড়ক নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আজকের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গাড়িচালকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে আমি আশা করি।”
ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান বলেন, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবকাঠামো উন্নয়ন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি একটি সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পেশাদার চালকদের সুস্থতা এবং বিশেষ করে সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি নিরাপদ যান চলাচল ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
“ডিটিসিএ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভিশনস্প্রিংয়ের সঙ্গে এই যৌথ উদ্যোগ চালকদের সক্ষমতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিরোধমূলক সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রম জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ডিটিসিএ ভবিষ্যতেও সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ সড়ক ও নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাবে।”
ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শাহরোজ জলিল বলেন, “গত এক বছরে আমরা বাংলাদেশে ৩০ হাজারের বেশি চালক ও পরিবহন খাতের কর্মীর দৃষ্টি পরীক্ষা করেছি। তাদের মধ্যে যাদের দৃষ্টি সংশোধনের প্রয়োজন ছিল, এমন ২৪ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে চশমা দেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগে ডিটিসিএ, বিআরটিসি, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিয়েছে।
“সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিটিসিএর সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে চালক ও পরিবহন কর্মীদের জন্য সহজলভ্য দৃষ্টি সেবা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করে বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা করছি।”
-টিএস